বিএনপি হরতালে সমর্থন দিয়ে পরিস্থিতি দেখলো

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩১
১৮ দলীয় জোট শরিক জামায়াতে ইসলামীর গতকালের হরতালসহ সাম্প্রতিক কার্যক্রম এবং এনিয়ে সরকারের অবস্থানকে ঘিরে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে বিএনপি। সমাবেশ করতে না দেয়ার অভিযোগে জামায়াতের অনেকটা আকষ্মিকভাবে দেশব্যাপী হরতাল আহ্বানের ঘটনায় একদিকে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় যেমন বিস্মিত, তেমনি সরকারের শক্ত অবস্থান নেয়ার বিষয়টিতেও হিসাব মেলাতে পারছে না দলটি। যে কারণে জামায়াত ও সরকার-উভয়ের উপরই সন্দেহের দৃষ্টি ফেলে আপাতত পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র ইত্তেফাককে জানায়, গতকালের হরতালে সমর্থন দেয়ার প্রথমে চিন্তা-ভাবনা ছিল না বিএনপির। প্রথমে সিদ্ধান্ত ছিল, সমর্থন দেয়া না দেয়ার বিষয়ে নীরব ভূমিকা দেখাবে দলটি। পরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পরামর্শে ‘নীতিগত সমর্থন’ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। সূত্রের দাবি, শরিক দল হিসাবে হরতালে সমর্থন জানানোর জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকেও বিএনপির উপর চাপ ছিল। নীতিগত সমর্থন জানালেও ঢাকাসহ দেশের কোথাও বিএনপিসহ জোটের অন্য শরিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা হরতালের পক্ষে রাস্তায় নামেননি। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ ীয় কার্যালয়ও গতকাল প্রায় দিনভর ছিল তালাবদ্ধ। দলীয় নেতা-কর্মীরাও কেন্দ ীয় কার্যালয়ে যাতায়াত করেননি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হরতালের সময় সারাদিন নিজ বাসাতেই অবস্থান করেন। বাসা থেকেই তিনি হরতালে সারাদেশে জামায়াত ও প্রশাসনের ভূমিকা পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় ফোন করে দলীয় নেতাদের মাধ্যমে খবরা-খবর জানেন। সূত্রের দাবি, হরতালে রাস্তায় না নামার জন্য দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের প্রতি এক ধরনের অলিখিত নির্দেশনা ছিল বিএনপির। এদিকে, জামায়াতকে সমাবেশ করতে না দেয়া এবং এজন্য হরতাল কর্মসূচি, পুরো বিষয়টিকে গভীর পর্যবেক্ষণে রাখছে বিএনপি। উদ্ভূত পরিস্থিতি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হচ্ছে কিনা তাও বিবেচনায় রেখেছে দলটি। এ ব্যাপারে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, জামায়াতকে সমাবেশ বা মিছিল করতে দিলে এমন কী ক্ষতি হতো। তখন যদি জামায়াত কোনো বাড়াবাড়ি করতো তাহলে প্রশাসন আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতো। কিন্তু সমাবেশ বা মিছিলের অনুমতি না দিয়ে তাদেরকে হরতাল দিতে বাধ্য করার মাধ্যমে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলা হচ্ছে। গোটা দেশবাসী উদ্বিগ্ন, আমরাও এনিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।