বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা) যাদের পুরাতন ইনডেক্স নেই এমন নতুন ১৭ হাজার ৭৬২ শিক্ষক-কর্মচারিকে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নভেম্বর থেকে এসব শিক্ষকরা বেতন পাবেন। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ফলে যারা বেতন পাননি তাদেরও নভেম্বর থেকে বেতন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে বেতন পাচ্ছেন না এমন শিক্ষক রয়েছেন ২ হাজার ১৫০ জন। এর মধ্যে স্কুলের ১ হাজার ৫৩৪ জন, কলেজের ২২০ জন এবং মাদ্রাসার ৩৯৬ জন। একইসঙ্গে প্রাপ্য টাইম স্কেলও পাবেন শিক্ষকরা।
নতুন পদে এমপিওভুক্তির বিষয়টি গত এক বছর ধরে ঝুলে ছিল। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তথ্য অনুযায়ী, নতুন পদে এমপিও পাচ্ছেন (ইনডেক্স বিহীন) স্কুলের ১০ হাজার ৩৪৭ জন, কলেজের ২ হাজার ৮৪৮ জন এবং মাদ্রাসার ৪ হাজার ৫৬৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী। টাইমস্কেল পাবেন স্কুলের ৯ হাজার ২৩৭ জন, কলেজের ৪ হাজার ২৯৭ জন ও মাদরাসার ৫ হাজার ৬৬০ জন, বিএড/কামিল স্কুলের ১ হাজার ৪৯ জন ও মাদরাসার ৫১২ জন। অভিজ্ঞতার জন্য উচ্চতর স্কেল পাবেন স্কুলের ৪ হাজার ৭৭৮ জন, কলেজের ২৩৮ জন ও মাদ্রাসার ২ হাজার ৪৯০ জন। এছাড়া বেসরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক পদের স্কেলভুক্ত হয়ে বেতন পাবেন ১ হাজার ২৩৮ জন শিক্ষক।
সব মিলিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে নতুন ৪৯ হাজার বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা দিতে হবে। এতে সরকারের প্রতি মাসে নিট খরচ বাড়বে ২৭ কোটি ৬ লাখ ২৭ হাজার ৭০৬ টাকা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী বিদেশে অবস্থান করায় মন্ত্রণালয় নভেম্বরের বেতন এখনো ছাড় করতে পারেনি। শিক্ষামন্ত্রীর মঙ্গলবার রাতে এবং শিক্ষা সচিবের ৬ ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বেসরকারি স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের এসব শিক্ষক আর্থিক সুবিধা বঞ্চিত ছিল। সর্বশেষ ২০১১ সালের জুন থেকে শূন্য পদে নিয়োগ পাওয়া ও ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের এমপিও বন্ধ রয়েছে। একইভাবে অন্য সুবিধাও বন্ধ ছিল। সারা দেশের প্রায় ৩৩ হাজার বেসরকারি হাইস্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ৫ লাখেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারী আছেন। এর মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্তির সুবিধা পান।
