আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এখন থেকে অভ্যন্তরীণ আমদানির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংকে তথ্য জমা দিতে হবে। এছাড়া বৈদেশিক আমদানির তথ্যও জমা দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। আগামী বছরের শুরুর দিন (১লা জানুয়ারি) থেকেই সব ব্যাংকের নিজ-নিজ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারি (এডি) শাখা থেকে স্থানীয় বিলসহ সব ধরনের লেনদেনের তথ্য দৈনিক ভিত্তিতে পাঠাতে হবে। এর আগে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে রফতানি তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অনলাইনে আমদানি তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হলে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে জালিয়াতি কমবে। এ অনলাইন পদ্ধতির কার্যকারিতা পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজও এরই মধ্যে শেষ করেছে বলে জানিয়েছেন তারা। ব্যাংকের নতুন এ নিয়ম বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করার জন্য শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, আমদানি ও রেমিট্যান্স অনলাইনে মনিটর করতে ‘অনলাইন ইমপোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’, ‘অনলাইন টিএম ফর্ম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ ও অনলাইন সি-ফর্ম অ্যান্ড ওয়েজ আর্নার্স রেমিট্যান্স রিপোর্টিং সিস্টেম’ নামে তিনটি অনলাইন সফটওয়্যার চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর আমদানি তথ্য জমা নেয়া হবে, দ্বিতীয়টির মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যে রেমিট্যান্স পাঠান তা রিপোর্ট করতে হবে এবং তৃতীয়টির মাধ্যমে সফটওয়্যার ব্যবহার করে সেবা রফতানির বিনিময়ে আসা রেমিট্যান্সের তথ্য জমা নেয়া হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে বাধ্যতামূলকভাবে তথ্য পাঠাতে হবে। তবে অনলাইনের পাশাপাশি বর্তমান প্রচলিত ম্যানুয়াল রিপোর্টিং পদ্ধতিও সাময়িকভাবে অব্যাহত থাকবে। এর আগে ২০১১ সালের ১লা নভেম্বর অনলাইনে রফতানি তথ্য জমা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
দেশের সকল ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, অনলাইন পদ্ধতি চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সব ধরনের সহযোগিতা দিবে। এজন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এডি শাখায় কম্পিউটার ও উচ্চক্ষমতার ইন্টারনেটের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এ কাজের সঙ্গে জড়িত ডেস্ক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিদিনের তথ্য ওই দিনই রিপোর্ট করতে হবে যেন দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ জানা যায়। এ কার্যক্রম শুরুর আগে প্রধান কার্যালয়সহ সব এডি শাখার নতুন ইউজার আইডি এবং গোপনীয় পাসওয়ার্ড সরবরাহ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন যে তিনটি সফটওয়্যার করা হয়েছে সব ব্যাংকই ইতিমধ্যে তাতে যুক্ত হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে বর্তমানে তথ্য জমা নেয়া হচ্ছে। এর আগে গত ৮ থেকে ১৭ জুলাই তথ্য পাঠানোর পদ্ধতি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর চারজন করে কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তারাই নিজ ব্যাংকের সব এডি শাখার কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করার কথা। সে মোতাবেক তাদের অগ্রগতি হয়েছে কিনা তা জানতে এমডিদের চিঠি দেয়া হলো। শিগগিরই এটি সার্কুলার আকারে সকলকে অবহিত করা হবে বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এখন প্রায় ৮৫০টি এডি শাখা রয়েছে। প্রচলিত নিয়মে এডি শাখার আমদানি, রফতানি কিংবা রেমিট্যান্সের হিসাব এসে প্রথমে ওই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জমা হয়। সে তথ্য একত্রিত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়। এর পর বাংলাদেশ ব্যাংক ওই তথ্য একত্র করে তা সংরক্ষণ করে। এ পদ্ধতিতে তথ্য মেলাতে গিয়ে কিংবা তদারক করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কিংবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নানা বিপত্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে পুরানো কোনো তথ্য প্রয়োজন হলে তা পেতে বেশ বেগ পেতে হয়। এতে তদারকিতে বেশ ঘাটতি থেকে যায়। এসব কারণে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের তথ্য অনলাইনে জমা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এতে করে ব্যাংকের জালিয়াতির প্রবণতাও কমে আসবে।
