চলতি শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মৌ চাষিদের পদভারে মুখরিত হচ্ছে জামালপুরের মেলান্দহ। গোটা এলাকা জুড়ে মৌ মাছির বাক্স কাঁধে নিয়ে তারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এসব মধু চাষিদের বেশির ভাগই টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। তাদেরকে একেক দিন একেক অঞ্চলের সরিষা ক্ষেত এলাকায় অভিনব পন্থায় মধু সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। তারা নারী মৌ মাছিদের বাক্সবন্দি রেখে সারিবদ্ধভাবে শত শত মৌ মাছির বাক্স ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখেন। আর পুরুষ মৌ মাছিগুলো বেরিয়ে পড়েন মধু সংগ্রহের কাজে। প্রতিটি বাক্সে ৩টি মধু ফ্রেমে প্রায় এক কোটি মৌ মাছির বিচরণ থাকে। এসব মাছিরা মধু জমায়েত করতে থাকে। এক সময় বাক্সের মধুর ফ্রেমে (মৌচাকে) মধুতে ভরে যায়। পরে চাষিরা মধু সংগ্রহ করে তা বাজারে বিক্রি করে থাকেন।
বাংলাদেশে সচরাচর ৪ ধরনের মৌ মাছির পরিচয় পাওয়া যায়। এপিস ডর ছাটা, এপিস সেরেনা, ফ্লোরিয়া এবং এপিস মেলিফেরা মৌ মাছির নাম বিশেষভাবে উ¬েল্লখযোগ্য। এপিস মেলিফেরা জাতের মৌ মাছি দ্বারাই ভ্রাম্যমাণ মধু চাষ করা হচ্ছে বলে চাষিরা জানান।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বাইশ কাইল গোয়ালপাড়া থেকে আগত ভ্রাম্যমাণ মধুু চাষি শফিকুল ইসলাম (৩২) জানান, তার খামারে একশ’ ১৫টি বাক্স আছে। সারা বছরই তিনি মধু চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মধু চাষে তার বছরে সাকুল্য খরচ হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। মধু বিক্রি থেকে তার আয় হয় কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা।
শফিক নামে এক মৌ চাষি জানান, তারা বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সরকারি ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেছেন। মধু চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে বিসিক কর্মকর্তারা পর্যাপ্ত তদারকি করেছেন। এখন তদারকির প্রয়োজন হয় না। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এটাকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। আমার মতো অনেক বেকাররাই এমন পেশা বেছে নিয়েছেন। তারা আর্থিকভাবে সচ্ছলতা পেয়েছেন। আমাদের স্বপ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে মধুর চাহিদা পূরণ শেষে বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক অর্থ উপার্জন করার।
