মামলার সংখ্যা অনুপাতে বিচারকের সংখ্যা কম ----------------প্রধান বিচারপতি

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:২৫

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, দেশে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয় আদালতে এবং এ কারণেই বেশি মামলা জট সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মামলা পারস্পরিক বোঝাপড়া বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। মামলার অনুপাতে বিচারকের সংখ্যা অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষের বিপরীতে মাত্র ১০ জন বিচারক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ১০৭, কানাডায় ৭৫, ব্রিটেনে ৫১ প্রতিবেশী দেশ ভারতে রয়েছেন ১৮ জন বিচারক। গতকাল শনিবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে ‘ন্যাশনাল জাস্টিস অডিট বাংলাদেশ’ শীর্ষক শেয়ারিং ইভেন্টে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাইকোর্টে মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি প্রতি বুধবার সাধারণ ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তির জন্য গত বছরের ৫ ডিসেম্বর থেকে ১৬টি বেঞ্চকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এসব বেঞ্চ সাড়ে ৩ মাসে ৮০ হাজার ৭৩৪ মামলার মধ্যে ৪১ হাজার ৪৬৪টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে। দেশের কারাগারগুলোতে বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা অনেক বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষ জিআইজেড-এর আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পাদিত ন্যাশনাল জাস্টিস অডিটের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়। এ ফলাফল উপস্থাপনের পর সুপ্রিম কোর্টের উপস্থিত বিচারপতিদের মধ্যে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম, বিচারপতি জে বি এম হাসান প্রমুখ।

সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল জুডিশিয়াল রিফর্ম কমিটির চেয়ারম্যান ও আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, উন্নয়ন সংস্থা ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) বাংলাদেশের প্রধান জুডিথ হারবার্টসন, জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মাইকেল শুলথহাইস ও জিআইজেড বাংলাদেশের রুল অব ল’র হেড অব প্রোগ্রাম প্রমিতা সেনগুপ্ত।