জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আসামি পক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার এ আদেশ দেয়। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সাঈদীর পক্ষে তার আইনজীবীর মামলার তথ্যগত যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল; কিন্তু হরতালের কারণে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় তাদের যুক্তিতর্ক সমাপ্ত ঘোষণা করে রাষ্ট্রপক্ষকে প্রত্যুত্তর দেয়ার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। তবে আদেশে বলা হয়েছিল, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যদি পরবর্তীতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আবেদন করেন সে ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে।
সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবার হরতালের কারণে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে না পারায় ট্রাইব্যুনাল যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে দেয়; কিন্তু আমরা সকালে আবারো যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ চেয়ে আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে। আমাদের বিকাল পর্যন্ত সময় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। এ সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা আমরা করবো। তিনি বলেন, মূলত পারের হাটে লুটপাট এবং সাঈদী পাকস্তানি সেনা বাহিনীর সহায়ক বাহিনীর সদস্য ছিলেন কিনা সে বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেছি। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, সহায়ক বাহিনীর সদস্য হিসেবে সাঈদী লুটপাট করেছেন। তবে তথ্য প্রমাণে দেখা যায়, রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছিলো ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে; কিন্তু তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ জুন মাসে। কাজেই সহায়ক বাহিনীর সদস্য তিনি ছিলেন না। পারের হাটে লুটপাটের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের চার সাক্ষী চারটি তারিখের কথা উল্লেখ করেছে। তাহলে কোন সাক্ষীর বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য। এ বিষয়গুলো আমরা উপস্থাপন করেছি। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী, আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের পর যদি আইনগত কিছু থাকে তবে রাষ্ট্রপক্ষ তার উত্তর দিতে পারবে, আমরাও পারব। রাষ্ট্রপক্ষ বুধবার ট্রাইব্যুনালে ডকুমেন্ট গ্রহণের জন্য আবেদন করে। এই আবেদনের পর আমরা ট্রাইব্যুনালে সময় চেয়েছি।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষকে বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করতে বলেছে। তবে বিকালের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার কথা। এরপর রায়ের দিন ঘোষণা ছাড়া অন্য কোনো প্রক্রিয়া নেই।
মুজাহিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ : এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অষ্টম সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ দেয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের এপ্রিলে ফরিদপুরে আসে পাকিস্তানি সেনারা। ফরিদপুরে আমাদের দোকানে অগ্নিসংযোগ করে তারা। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজাহিদ, আবুল কালাম আযাদ, কালু বিহারী তখন পাক সেনাদের সহযোগিতা করতেন। ফরিদপুর সার্কিট হাউসে তিনি সেনাদের সঙ্গে বিভিন্ন শলা-পরামর্শ করতেন। মুজাহিদ ফরিদপুর শহরের ভিতরে একটি জিপ গাড়ি নিয়ে ঘোরাফেরা করতেন। তার হাতে তলোয়ার থাকতো। তিনি ভিলেনের মতো চলাফেরা করতেন। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মুন্সি আহসান কবীর। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
কাদের মোল্লার পক্ষে সাক্ষ্য : এদিকে কাদের মোল্লার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন পঞ্চম সাক্ষী। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল আলুবদী গ্রামের তিনদিক থেকে পাক সেনারা ঢুকে সেখানে হত্যাকাণ্ড চালায়। তখন বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগও করে। ঘটনার সময় আসামি কাদের মোল্লা ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং তাকে আমি দেখি নাই। এই মামলা হওয়ার পর শুনেছি কাদের মোল্লা আলুবদীর ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মামলা হওয়ার আগে আবদুল কাদের মোল্লার নাম আমাদের গ্রামের কেউই শুনেনি। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ আলী। মামলার কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
