ঝালকাঠির নতুন কলাবাগান থেকে অপহূত শিশু আরাফাতকে অপহরণের সাড়ে ৬ ঘন্টা পরে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মুক্তিপণ দাবিকরা কানিজ ফাতিমা লিমার বাবার মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ তার বাসার ছাদ থেকে শিশু আরাফাতকে উদ্ধার করে। ঝালকাঠি পুলিশ সুপার মজিদ আলীর নির্দেশে এএসপি (সার্কেল) আফম আনোয়ার হোসেন-এর নেতৃত্বে লিমার কলাবাগানের বাড়িতে রাতে অভিযান চালানো হয়। এর আগে পুলিশের একাধিক টিম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কলাবাগান এলাকা ঘিরে রেখে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এএসপি (সার্কেল) আফম আনোয়ার হোসেন জানান, লিমা মাদক ব্যবসা, চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক একটি চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার সাথে কলাবাগান এলাকার লাট ভাই নামে পরিচিত লিটনসহ একটি অপরাধ চক্রের যোগাযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে লিটন শিশু আরাফাতের পিতার নির্মাণাধীন বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করেছিল। তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, অভিযান চলাকালীন সময়ে লিমার বাড়ির ছাদে আরাফাতকে লুকানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। লিমার নানী শিশুটিকে কোলের ভিতর নিয়ে ছাদের এক কোনায় লুকিয়ে ছিল। শিশুটিকে অপহরণের পর চেতনানাশক অষুধ খাওয়ানোর কারণে সে কোন কথা বলতে পারছে না। তবে ডাক্তার জানিয়েছে সে আশংকা মুক্ত। উদ্ধারের পর রাত ৮টায় ঝালকাঠি থানায় পুলিশ সুপার মজিদ আলী শিশু আরাফাত উদ্ধারের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। এ ঘটনায় পুলিশ লিমাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে। এরা হল লিমার পিতা তছলিম উদ্দিন, ভাই তরিকুল ইসলাম তুষার ও নানী সুফিয়া বেগম। গ্রেফতারকৃত বাকি একজনের নাম পুলিশ তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করেনি।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে কলাবাগান এলাকার সিটি কিন্ডার গার্ডেন বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর ছাত্র আরাফাত হোসেনকে (৭) অপহরণ করে মোবাইলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল।
