কবি কাজী কাদের নেওয়াজের শ্রীপুরের বাসভবন সংস্কারের অভাবে আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। নিঃসন্তান কবি দম্পতির মৃত্যুর পর দ্বিতল ভবনটি সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা হয়নি। ফলে দেয়ালের ইট, বালি, চুন ও সুড়কি-খোয়া খসে খসে পড়ছে। ভবনের দামি কাঠ ও লোহার জানালা-দরজা দিন দিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। কবি ১৯০৯ সালের ১৫ আগস্ট মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নিবাস ভারতের বর্ধমানের মঙ্গলকোট গ্রামে। বহরমপুর কলেজ থেকে ইংরেজিতে সম্মানসহ বি,এ পাস করেন । কিছুদিন তিনি এম,এ ক্লাসেও অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৩২ সালে বি,টি পাস করে কর্মজীবন শুরু করেন। স্কুল সাব ইন্সপেক্টরের দায়িত্ব অল্প কিছুদিন পালনের পর তিনি শিক্ষকতা পেশায় মনোনিবেশ করেন। দেশ বিভাগের পর তিনি পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে ঢাকায় এসে নবাবপুরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগদান করেন। ১৯৫১ সালে তিনি দিনাজপুরের জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি কুমার নদের তীরে ঝাউগাছের ছায়াতলে বসে অসংখ্য কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন। তার লেখা অসংখ্য কবিতা পাঠ্য পুস্তকে স্থান পেয়েছে। শিশুসাহিত্যিক কাজী কাদের নেওয়াজ গদ্য রচনাতেও কুশলী ছিলেন। সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী ও প্রেসিডেন্ট পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি ১৯৮৩ সালের ৩ জানুয়ারি মারা গেলে মুজদিয়া গ্রামের কবিভবনের পাশেই কুমার নদের তীরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
