ইচ্ছা থাকলেও মুখ খুলে কথা বলার উপায় নেই সিরাজগঞ্জের বেলকুচির হতদরিদ্র আব্দুল মান্নান ও তার ২ মেয়ের। কারণ তারা বাকপ্রতিবন্ধী। যমুনা সর্বস্ব কেড়ে নেয়ায় ছিল না বাড়িটিও। গাড়ামাসী গ্রামে স্বল্প একটু জমি কিনে ছোট ঘরে চলে তাদের ৬ সদস্যের বসবাস। খবরের কাগজ বিক্রিতে মান্নানের যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনরকমে চলে তাদের সংসার। তার সুদর্শনা দুই মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ আসলেও বোবা হওয়ায় পিছিয়ে যায় পাত্র পক্ষরা। কেউ-কেউ রাজী থাকলেও দাবি করে মোটা অংকের টাকা। যাদের দু’বেলা-দু’মুঠো পেট পুরে খাওয়া ও ভাল পোশাক পরার সামর্থ্য নেই, তারা দু’ মেয়েকে বিয়ে দিতে টাকা পাবে কোথায়।
প্রতিদিন ভোর হলে বেলকুচি পৌর এলাকার গাড়ামাসী মহল্লায় বোবা আব্দুল মান্নান (৪৫) ছুটে যান পত্রিকা সংগ্রহ করতে। পত্রিকা এজেন্ট দৌলত মন্ডলের নিকট থেকে বিভিন্ন পত্রিকা নেবার পর সাইকেল বা পায় হেঁটে বেড়িয়ে পড়েন তা বিক্রিতে। এলাকার সমাজসেবক ফজলুল হক সরকার, বংশী বদন সাহা, আলহাজ্ব এমএ বাকী, আলহাজ্ব আব্দুল কাদের পান্নু ও শ্রী বৈদ্যনাথ রায়। তারা জানান, এলাকার মধ্যে এক নিষ্ঠাবান ব্যক্তি হচ্ছে বোবা মান্নান। সে অসহায় হলেও কারো কাছ থেকে হাত পেতে সহযোগিতা চায় না। পত্রিকা বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে তার সংসার। তাই পত্রিকা নিয়ে আসামাত্র আনন্দ সহকারে তার কাছ থেকে সংগ্রহ করি।
বড় দুই মেয়ে তার মতই বাকপ্রতিবন্ধী। স্ত্রী ও ছোট দুই মেয়ে কথা বলতে পারে। কষ্টে চলে ছোট দুই মেয়ের লেখাপড়া। মান্নানের ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার উপার্জনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিবন্ধীদের এই সংসারে এখন প্রধান সমস্যা বিয়ে উপযুক্ত বোবা দুই মেয়েকে পাত্রস্থ করা। কিন্তু প্রয়োজন প্রচুর টাকার। তাই এ চিন্তায় প্রতিটি সময় কষ্টে কাটে। আর এ কথা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পরে মান্নানের স্ত্রী রাশিদা বেগম।
পরিবারটির দুরাবস্থার বিষয়ে অনুতপ্ত হয়ে প্রবীণ সাংবাদিক এবং বেলকুচি প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক অসীত বরণ চৌধুরী দেশের বিত্তবান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের কাছে চাইলেন সহযোগিতা। এ ব্যাপারে বেলকুচি পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন (লাল খান) জানান, তার প্রতি আমাদের সকলের সহানুভূতি রয়েছে।
