যশোরের পাম চাষিরা বিপাকে তেল তৈরির কৌশল না জানার দুশ্চিন্তায় কৃষক

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৭
অপার সম্ভাবনার পাম চাষ যশোরের চৌগাছার কৃষকের গলায় ফাঁস হয়ে দেখা দিয়েছে। গাছে গাছে এখন ফল আসলেও সেই ফল কৃষকরা কী করবে তা তারা বুঝতে পারছে না্। কোন্ প্রক্রিয়ায় পাম ফল থেকে তেল পাওয়া যাবে তার কিছুই জানে না তারা। যেসব সংস্থা পাম চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছিল তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষি বিভাগও কোন পথ দেখাতে পারছে না। ফলে কৃষকরা এখন পাম ফল নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী ও গ্রীন বাংলাদেশ নামে একটি সংস্থা তাদেরকে পাম গাছের চারা সরবরাহ করেছিল। এর মধ্যে সেনাবাহিনী বিনা মূল্যে এবং গ্রীন বাংলাদেশ আশার আলো দেখিয়ে উচ্চ মূল্যে চারা বিক্রি করেছিল। আইসিসি এ্যাগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের মাটিতে নিরপেক্ষ মাত্রায় ক্ষারত্ব মাত্রা পরিমাণ মত থাকায় পাম চাষের উপযোগী। বাংলাদেশে আড়াই থেকে চার বছরের মধ্যে গাছে ফল আসে। মালয়েশিয়ান পামওয়েল কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি গাছ থেকে বছরে কমপক্ষে ৫০ কেজি তেল পাওয়া যায়। একটি পরিবারে দুই থেকে পাঁচটি পাম গাছ সারা বছরের তেলের চাহিদা পূরণ করতে পারে। উপজেলার কাঁদবিলা গ্রামের পাম চাষি আব্দুর রহিম মুন্সি জানান, গ্রীন বাংলাদেশের কাছ থেকে সাড়ে ৮শ’ টাকা দিয়ে চারা কিনেছিলেন। শর্ত ছিল চার বছর তারা সার, কীটনাশক, সেচ, পরিচর্যা প্রভৃতির খরচ বহন করবে। কিন্তু চারার টাকা পরিশোধের পর সংস্থাটি কোন খবর নেয়নি। তারা যশোর অফিসটিও বন্ধ করে দিয়েছে। আব্দুর রহিমের ৬০ টি পাম গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। তিনি জানান, গাছের ফল আসার আনন্দের পরিবর্তে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এই ফল থেকে কীভাবে তেল সংগ্রহ করতে হবে তা তার জানা নেই। তাছাড়া পাম ফলের কোন ক্রেতাও নেই। এ অবস্থায় ফল নষ্ট হওয়া ছাড়া কোন পথ নেই। একই অবস্থায় পড়েছেন রহিমের প্রতিবেশি মশিয়ার রাহমান, হাকিমপুর গ্রামের আবু কালামসহ অনেকে। এব্যাপারে চৌগাছা কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ কোন তথ্য দিতে পারেনি। এ ব্যাপারে পাম চাষিরা সরকারের দিক-নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে।