পাবনার চাটমোহর উপজেলায় আত্মহত্যার প্রবণতা কমছে না। গত ১১ মাসে এ উপজেলায় ৪৯টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা রহস্যজনক। এছাড়া আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। গত বছর এ উপজেলায় ৪৬টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। চলতি বছর চাটমোহরে পারিবারিক কলহ, যৌতুকের বলি হয়ে, স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্যাতনে, প্রেমজনিত কারণে এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে নারী ও পুরুষ আত্মহননের পথ বেছে নেয়। সর্বশেষ গত ৩০ নভেম্বর গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা গ্রামের আফজাল মোল্লার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম (২৫)। এ ছাড়া ১৭ নভেম্বর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের কুমারগাড়া গ্রামের ফজলুল হকের মেয়ে ফরিদা খাতুন (১১) গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে। ১০ নভেম্বর গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে কাটাখালী গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে আলম হোসেন (২৫)। ১১ নভেম্বর গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন ফৈলজানা গ্রামের বাদল প্রামানিকের স্ত্রী সাজেদা খাতুন (৫৫)। ২৯ অক্টোবর হরিপুর ইউনিয়নের ধরইল গ্রামের ছড়ান আলীর শিশু কন্যা রাশিদা খাতুন (১২) গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে। ২৩ অক্টোবর আত্মহত্যা করে মূলগ্রাম ইউনিয়নের অমৃতকুন্ডা গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে শামীম হোসেন (২৩)। বিয়ে না দেয়ায় গলায় ফাঁস নিয়ে সে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। ১৬ সেপ্টেম্বর গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে উপজেলার ধানকুনিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে শাহ আলম। ১৪ সেপ্টেম্বর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে আড়িংগাইল গ্রামের আঃ ছাত্তারের মেয়ে শিরিন খাতুন(১৫)। একই দিন আত্মহত্যা করে সোহাগবাড়ী গ্রামের ফজলুল হকের মেয়ে স্বপ্না খাতুন (১৭)। সবার অগোচরে গলায় ফাঁস নিয়ে সেও আত্মহত্যা করে। ১ সেপ্টেম্বর উপজেলার বাঙ্গালা গ্রামের হাশেম বিশ্বাসের ছেলে মিজানুর রহমান (২০) প্রেমজনিত কারণে কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করে। ৩০ আগষ্ট হান্ডিয়াল ইউনিয়নের সিদ্দিনগর গ্রামে সুণীল কুমারের স্ত্রী শান্তনা বালার (৪০) রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। ২৯ আগষ্ট কীটনাশক বিষপানে আত্মহত্যা করে হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বাঘলবাড়ি কৈ গ্রামের আবুল হাশেমের স্ত্রী রোজিনা খাতুন (৩০)। ২৭ আগষ্ট বিষপানে আত্মহত্যা করেন ছাইকোলা ইউনিয়নের কাটেঙ্গা গ্রামের মৃত আজিমউদ্দিনের ছেলে তয়জাল আলী (৬০) এবং একই মাসের ১৩ তারিখে কীটনাশক পানে কাটেঙ্গা গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী সুরমা খাতুন (২৮)।চলতি বছর যে সকল আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর কারণ হিসেবে থানায় উল্লেখ করা হয়েছে পেটের পীড়া অথবা অসুস্থতা। দু’একটি আত্মহত্যার ময়না তদন্ত করা হলেও অধিকাংশ আত্মহত্যার বিষয়ে কোন ময়না তদন্ত করা হয়নি। রহস্যজনক ভাবে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে থানায় অপমৃত্যু মামলা হলেও পরবর্তীতে আর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (প্রশাসন) হাবিবুল ইসলাম জানান, যে সকল অপমৃত্যুর বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি সেগুলোর বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ অপমৃত্যুর ব্যাপারে কোন অভিযোগ থাকে না।
