ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সুগন্ধি ধান চাষে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যান্য ধানের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম পরিচর্যায় অধিক লাভজনক সুগন্ধি ধান চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক কৃষক পারিবারিক প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত সুগন্ধি ধান বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। উপজেলার বিল, ডোবা-নালার মত নীচু এলাকা ছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫০ টি ব্লকের এমন কোন ফসলের মাঠ নেই যে মাঠে সুগন্ধি ধানের চাষ হয়নি ।
বর্তমানে আমন মৌসুমে চাষ করা সুগন্ধি ধানের মধ্যে তুলসীমালা ও কালোজিরা অন্যতম। তবে সুগন্ধি ধানের আবাদ এখন শুধু আমন মৌসুমেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাচীন জাতের সুগন্ধি কালোজিরা ও তুলসীমালা ধান ছাড়াও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বদৌলতে এখন আমন মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল ব্রি-ধান ৩৪ সুগন্ধি ধানের চাষ হচ্ছে যার প্রতি হেক্টরে ৪০/৫০ মণ ফলন হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি-ধান ৫০ এখন ‘বাংলামতি’ নামে সারাদেশে বোরো মৌসুমেও চাষ করা হচ্ছে। ভারত এবং পাকিস্তানের বিখ্যাত সুগন্ধি ধান বাসমতির চাইতে ফলন বেশি হওয়ায় ইতোমধ্যে ‘বাংলামতি’ সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সাধারণত দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি সুগন্ধি ধান চাষের জন্য বেশ উপযোগী। অন্যান্য ধানের আবাদের মত খরাসহিষ্ণু সুগন্ধি ধান চাষে পরিচর্যা,সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন পড়ে না বিধায় কৃষকের অনেক অর্থের সাশ্রয় হয়। এ কারণেই কৃষক সুগন্ধি ধান চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। কারণ তারা আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবুল বাশার জানান, এবছর উপজেলায় উফশী ব্রি-ধান ৩৪ জাতের ১০০ হেক্টর এবং কালোজিরা ও তুলসীমালা জাতের ১৬০ হেক্টরসহ মোট ২৬০ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ধানের চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের চাইতে প্রায় ৬০ হেক্টর বেশি।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যাত সুগন্ধি চালের মোকাম হচ্ছে উপজেলার আঠারবাড়ি রায়েরবাজার। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উত্পাদিত সুগন্ধি চাল প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা এলাকার পাইকাররা কিনে নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মাজেদ বলেন, এ উপজেলার সুগন্ধি ধান চাষের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। এ জাতীয় ধান অপেক্ষাকৃত কম উর্বর জমিতে ফলে। উত্পাদন খরচ কম হওয়ায় এ জাতীয় ধান চাষে কৃষকের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
