ঘুরে দাঁড়াল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৪
মারলন স্যামুয়েলসের সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গতকাল বুধবার রাতে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে জমিয়ে তুলেছে। দিবা-রাত্রির খেলায় বাংলাদেশের দেয়া ২২৮ রানের জবাবে ১৮ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ওয়ানডে সিরিজের গত দুই ম্যাচে বাংলাদেশি স্পিনাররা ভালোই নাকানি চুবানি-খাইয়ে ছিল ক্যারিবীয়দের। কাল এর জবাবটা ভালোই দিলো সফরকারী দলের স্পিনাররা। বাংলাদেশের ১০ উইকেটের মধ্যে সাতটি নিয়েছেন স্পিনাররা। উইকেট শিকারের ক্ষেত্রে এগিয়ে সুনীল নারিন। যিনি খুলনার দুই ম্যাচে মাত্র একটি উইকেট পেয়ে-ছিলেন। গতকাল বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যেন নতুন করে তার লক্ষ্য খুঁজে পেলেন। মাত্র নয় বলে তিন উইকেট নেয়ার পর ইনিংস শেষে তার বোলিং ফিগার দাঁড়িয়েছে ১০-০-৩৭-৪। আর এতেই বাংলাদেশের স্কোর বোর্ড থেমে যায় ২২৭ রানে! এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ব্যাটসম্যান কিয়েরন পাওয়েল ও মারলন স্যামুয়েলস বাংলাদেশিদের ঘাড়ে চেপে জয়ের জন্য খেলছে। এই দুই জনের ব্যাটিং বাংলাদেশকে হতাশায় ফেলে দিচ্ছে। অথচ দিনের শুরুতে দারুণ কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল মুশফিকরা। সেই দারুণ কিছু করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন ছিল টস জেতা; কিন্তু ভাগ্য কাল মুশফিকের পাশে ছিল না। তাই টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা। তবুও দারুণ কিছুর আশায় তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয় ওপেন করেন; কিন্তু নারিনের মাত্র এক ওভারেই সব আশা-স্বপ্ন নিভে যায়। ৮ রানে ফাইন লেগে ডুয়েন ব্রাভোর কাছ থেকে লাইফ পাওয়ার পরও বিজয় সেটিকে বেশিদূর এগিয়ে নিতে পারেননি। তামিম (২২) কাট করতে গিয়ে আউট হলেও বিজয় আউট হওয়ার আগের বলেই আরো একটি লাইফ পেয়েছিলেন ‘নো’ বলের কল্যাণে; কিন্তু এই সুযোগের সঠিক ব্যবহারও করতে পারেননি তিনি। অনভিজ্ঞতার অভাবেই শেষ মেষ নারিনকে উইকেট দিয়ে ফিরেন বিজয় (৩৩)। দুই ওপেনারের বিদায়ের পরই ছোটখাটো একটা ভাঙ্গন ধরে স্বাগতিকদের। ১১০ রানের মধ্যে একে একে বিদায় নেন নাঈম ইসলাম, নাসির হোসেন ও মোমিনুল হক। যে পার্টনারশিপের অভাবে বাংলাদেশের স্কোর ভাঙ্গা হাঁড়ির মতো বাজছিল সেটি পূরণ করেছেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও অধিনায়ক মুশফিক। ষষ্ঠ উইকেটে ৫৮ রানের পার্টনারশিপ বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পেয়েছে। রিয়াদ অবশ্য সোহাগ গাজীকে সঙ্গে নিয়ে ৩৯ রানের আরো একটি মাঝারি পার্টনারশিপ গড়েন যা বাংলাদেশকে দুশো রানের বেড়া টপকাতে সাহায্য করে। আফসোস হচ্ছে শেষ পাওয়ার প্লের জন্য। শেষ পাওয়ার প্লেতে দুই উইকেট খরচে বাংলাদেশ পায় মাত্র ১৪ রান! অথচ প্রথম পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে মুশফিকরা তুলেছিল ৪৪ রান। রিয়াদের চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছাড়া বাকিদের খাতায় উল্লেখ্যযোগ্য কিছু ছিল না। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের শুরুতে ক্রিস গেইলকে ফিরিয়ে দিয়ে যে ঝড়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দেশ সেরা পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা সেই আনন্দের রেশ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বরং স্যামুয়েলস ও পাওয়েল প্রতিটি ওভারে নিজেদেরকে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছেন। স্যামুয়েলস ১২৬ ও পাওয়েল ৪৭ রান করে খেলাটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন ।