সম্প্রতি জামায়াত-শিবিরের মিছিল থেকে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়েছে। পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে সেই অস্ত্র দিয়ে পুলিশকেই পেটানো হচ্ছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে পুলিশের উপর যেনো জামায়াত-শিবিরের কোনো আক্রোশ রয়েছে। গতকাল বুধবারও নারায়ণগঞ্জ, সিলেট ও খুলনায় পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন দূতাবাসের গাড়িতে হামলার পর গতকাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি টহল পিকআপভ্যান জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ভাঙচুর করে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সূত্রে জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক মাসে রাজধানীসহ সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের হামলায় ২১৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ২৬ জনের অবস্থা গুরুতর। পুলিশই কেন জামায়াত-শিবিরের টার্গেট হচ্ছে? এর উত্তরে দেশের প্রখ্যাত অপরাধ ও আইন বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের পুলিশকে টার্গেট করার অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রের, জনগণের ও সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থা নেয়া। শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য ব্যাহত ও তাদের মুক্তির দাবিতে এ হামলা আর নাশকতা হচ্ছে না। বিদেশি কোন চক্রের স্বার্থ হাসিলের জন্য জামায়াত-শিবিরকে দিয়ে খেলানো হচ্ছে বলে তারা অভিমত দেন।
বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিক উল হক বলেছেন, পুলিশের উপর জামায়াত-শিবিরের হামলা অত্যন্ত খারাপ লক্ষণ। স্বাধীন বাংলাদেশে তারা এভাবে মানুষজনকে মারতে পারে, ভাবতেই খারাপ লাগে। যেখানে সরকার বলে জামায়াত-শিবিরের অস্তিত্ব নেই। এটা আসলে ভুল। গত মঙ্গলবারের হরতালে তা প্রমাণিত। সরকার বলে জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রণে এবং অপরদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। পুলিশকে পেটানো দু:খজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশিষ্ট মনোরোগ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. গোলাম রাব্বানি বলেন, সরকারের এই বাহিনীকে টার্গেট করে হামলার অর্থ হচ্ছে তাদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করা। এতে পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে পড়লে জামায়াত-শিবির তাদের মনের বাসনা পূর্ণ করতে পারবে। জামায়াতের বড় বড় নেতারা জেলে। তাদের যদি একটা কিছু হয় তাহলে জামায়াত মরার আগে মরণ কামড় দিবে। সেই কারণে তারা পুলিশকে টার্গেট করেছে। এমনকি জামায়াত-শিবির সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করতে পারে। গায়ে বোমা বেঁধে আত্মাহুতি দিয়ে যে কোন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
১০ নভেম্বর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ছাত্রাবাসে ১২টি শক্তিশালী বোমাসহ শিবির ক্যাডার নূরুল হুদা গ্রেফতার হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হুদা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্মকর্তাদের জানান, জামায়াত-শিবিরের প্রধান টার্গেট পুলিশ। কারণ এতে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রমে বাধা পড়বে এবং তাদের মুক্তির পথ সহজ হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, পুলিশকে টার্গেট করার অর্থ হচ্ছে জনগণ, রাষ্ট্র ও তথা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। জামায়াত-শিবিরের চরিত্র যে ৭১ সালের মতই রয়ে গেছে, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তা প্রমাণ হয়। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্য প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, দেশব্যাপী জামায়াত-শিবির পুলিশকে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। এটা হলো জামায়াত-শিবির অপশক্তির অপতত্পরতা। তারা পুলিশের মনোবল দুর্বল করার জন্য টার্গেট করে হামলা করছে। পুলিশের মনোবল ভেঙ্গে পড়লে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ও জনগণের বিরুদ্ধে যে কোন অঘটন ঘটাতে সক্ষম হবে। তাদের গভীর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে পারবে। সেই কারণে পুলিশকে টার্গেট করেছে জামায়াত-শিবির। এ অবস্থা আর চলতে দেয়া যায় না। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জামায়াত-শিবির যা খুশি তা আর করতে দেয়া হবে না। কঠোর হস্তে দমন করা হবে আইজিপি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর ইতিমধ্যে দলীয় সভায় নেতা-কর্মীদের বলেছেন, আপনারা পুলিশকে সহযোগিতা করবেন, যেখানে জামায়াত-শিবির পাবেন, ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিবেন। আমরা প্রমাণ করবো পুলিশ জামায়াত-শিবিরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের জবাব দিতে জামায়াত-শিবির আরও বেপরোয়া হামলা করছে। এ প্রসঙ্গে এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জামায়াত-শিবির হলো ধর্ম ভিত্তিক সংগঠন। তাদের আচরণ হচ্ছে সেই ধরনের। তাদের সম্পর্কে মন্ত্রীর ঐ বক্তব্যে কিছু আসেযায় না বলে তিনি জানান।
