জাতীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশ যাই হোক না কেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জাতীয় লক্ষ্য সফল করার উদ্দেশ্যে পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশুর সুরক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতের বাজেট সুরক্ষার আহবান জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘উন্নয়ন সমুন্বয় এবং ইউনিসেফ’ এর উদ্যোগে প্রস্তুতকৃত ‘চিলড্রেন এন্ড বাজেট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ আহবান জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, জাতীয় বাজেটের অংশ হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে অর্থবরাদ্দ কমে গেছে। দেশের আইন, নীতিমালা এবং কর্মসূচিতে শিশুদের উন্নয়নে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সরকারগুলোর পদক্ষেপের কার্যকারিতার সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়ে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং পুষ্টির ক্ষেত্রে সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আনুপাতিক হারে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ ও উন্নয়ন সমুন্বয়। যা টেকসই বিনিয়োগ এবং পূর্ববর্তী বছরগুলোর অর্জন ধরে রাখার জন্যে সর্বনিম্ন সীমার নীচে হবে না।
কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের সভাপতিত্বে প্রতিবেদনের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হুমায়ূন কবির। আলোচনা করেন অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসাইন জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্টের পরিচালক মোস্তফা কে মোজেরী প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফ প্রতিনিধি প্যাসকেল ভিলনোভ।
প্যাসকেল ভিলনোভ বলেন, ‘মধ্য আয়ের দেশ হওয়ার লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার জন্যে শিশুদের প্রেক্ষাপট থেকে জাতীয় বাজেট বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের মর্যাদা অর্জনে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় স্বল্প-পুষ্টি সম্পন্ন শিশুদের উচ্চহার, যা বাংলাদেশেরই এই প্রচেষ্টাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে, তা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরাসরি পুষ্টি কর্মসূচি পরিচালনার জন্যে শিশু পুষ্টি-বান্ধব বিশেষ বাজেট থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে সকল উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। যার মধ্যে, শিশুদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কেন্দ্রিক জাতীয় কর্মসূচিতে সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষাখাতের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
