ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হল হজ্ব। হজ্ব আদায়ে শারীরিক এবং আর্থিক এবাদত দুটোই হয়। পবিত্র হজ্ব আদায়ে প্রয়োজন নির্দ্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা। এজন্য সারা বিশ্বের মুসলমানদের পবিত্র হজ্ব পালনে গুরু দায়িত্ব পালন করছে পবিত্র মক্কা মোকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারা, আরাফা, মিনা, মুজ্দালিফার দেশ, সৌদি আরব। পবিত্র হজ্ব পালনে সার্বিক সহায়তার গুরু দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন সৌদি সরকার। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাচ্ছন্দে, নিরাপদে হজ্ব পালনে সহায়তার লক্ষে। শুধু তাই নয়। হারামাইন শারীফাইন দ্বয়ের খেদ্মতে এমন কোন দিক বা বিভাগ নেই যার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ হয়নি। এমনকি সৌদিবাদশা নিজেকে খাদেমুল হারামাইন শারীফাইন ঘোষনা দিয়েছেন। আল্লাহর মেহমানদের খেদমত করার। সুযোগটা নিজেদের গর্বের বিষয় মনে করে। শুধু তাই নয় সৌদি বাদশা সরকারী সকল ভাতা বেতন সুযোগ সুবিধা নিজে গ্রহণ না করে বিশ্বের মুসলমানদের হজ্ব পালনে সহায়তার জন্য একটি প্রোগ্রাম যার নাম (বারনামেজ দুয়ুফ খাদেমুল হারামাইন আশ্ শারিফাইন)। অর্থাত্ সৌদি বাদশা এর মেহমানদারী প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামের আওতায় প্রতি বত্সর পর্যায়ক্রমে সকল মহাদেশ থেকে সৌদি বাদশাহ এর আমন্ত্রণে হজ্ব পালনে সার্বিক সহায়তা করা হয়। যাদের থাকা-খাওয়া, আসা-যাওয়া, হাদিয়া প্রদানসহ সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন এই প্রোগ্রাম কতৃপক্ষ। প্রোগ্রামের মেহমান দারীর মান সর্বাবস্থায়ই ফাইভ স্টার পর্যায়ের। এই প্রোগ্রামটি কয়েকটি মন্ত্রণালয় যেমন, ধর্ম মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, হজ্ব মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বাস্তবায়ন করে থাকে। এতে সৌদি আরবের প্রকৃত আতিথেয়তার চরিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে সৌদি জনগন নিজ হাতে বিভিন্ন প্রয়োজনে হাজিদের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগীতা দিয়ে আসছে। যা দেখলে মনে হয় রাসূল (স.) এর মেহমানদারী বিষয়ক হাদিসের বাস্তব আমল। এতে বিভিন্ন দেশ থেকে মেহমান হিসাবে হজ্ব করতে আসা হাজীগণ তাদের ঊষ্ণ আতিথেয়তায় মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত হয়ে, সৌদি কর্তৃপক্ষ তথা বাদশা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজকে এই ধরনের প্রোগ্রাম হতে নেয়ার জন্য ধনবাদ জানান। এই বত্সর সৌদি বাদশার আমন্ত্রণে এই প্রোগ্রামের আওতায় হজ্জ করতে সৌভাগ্যের সুযোগ হয়েছিল আমার। যার কারণে নিজ চোখে আরবদের আতিথেয়তা দেখে এবং পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করার পাশাপাশি, সৌদি কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশস্থ সৌদি রাষ্ট্রদূতঃ ডঃ আব্দুল্লাহ বিন নাসের আল বুসাইরী সর্বোপরি সৌদি বাদশা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমার সাথে মেহমান হয়ে বাংলাদেশের কিছু প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ ও হজ্ব আদায় করেন এদের মধ্যে বিশেষ করে দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক জনাব আলমগীর মহিউদ্দিন, বিচারপতি সৈয়দ জিয়াউল করিম, ডঃ আসাদুজ্জামান রিপন, এম,এ জাব্বার এমপি, ডঃ আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, ডঃ সদরুল আমিন, ডঃ এম কোরবান আলী, ডঃ সৈয়দ আশরাফ আলী, জনাব এ,কে.এম নাজির আহমাদ, মেজর জেনারেল আঃ সালাম চৌধুরী, অধ্যাপক আঃ মালেক, শায়েখ সুলতান যউক নদভী, আ,ফ,ম খালিদ হোসেন, ডঃ মুহাম্মদ আঃ সালাম আল্মাদানী, ডঃ মুহাম্মদ নুরুল্লাহ, ডঃ কুতবুল ইসলাম, ডঃ আবু আব্দুল্লাহ মোঃ শাহিদ খান, এ,কিউ,এম, আঃ শাকুর খন্দকার মুফতী ওয়ালিউর রহমান খান, রুহুল আমিন গাজী, ইঞ্জিঃ নুরুল হুদা, ডাঃ এ,এস,এম মাহমুদুর রহমান, আবুল বাসার খান, মীর আঃ ওহাব লাবীব, এমদাদুল হক খান, ডাঃ মুহাম্মদ মুসলেহ উদ্দিন, শাব্বির আহমাদ মোমতাজী, বিশিষ্ট সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসাইন, মোঃ আব্দুল মান্নান। বিশ্বের প্রায় ৮১ টি দেশের মোট ১৪০০ হাজ্বি মেহমান এ বত্সর এই প্রোগ্রামের আওতায় পবিত্র হজ্ব পালন করেন। এত সংখ্যক মেহমানদের প্রথম শ্রেণীর মেহমান্দারীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায়, প্রত্যেকেই, সৌদি জনগণ, ব্যক্তিবর্গ, ব্যবস্থাপনা, মন্ত্রনালয়সহ সৌদি বাদশাহ এর প্রতি অকুণ্ঠ চিত্তে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
