পজিশনিং বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা

শুধু সমস্যা নয় অর্জন ও সম্ভাবনা আছে অনেক

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪১
স্বাধানীতার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা হলেও সময়ে সময়ে দেশটির অর্জন কম নয়। সম্ভাবনাও রয়েছে অনেক। অথচ অর্জনগুলো খুব একটা আলোচনায় না আসলেও সমস্যা আর ত্রুটিগুলোই বেশি সমালোচিত হয়ে আসছে। তাই সম্ভাবনা বিবেচনা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বিদেশিরাও আসতে পারে তাদের বিনিয়োগ নিয়ে। যা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে। আর দেশের মানুষকে করবে সচ্ছল। এ কথাগুলো উঠে এসেছে ঢাকা চেম্বার, ক্যাটালিস্ট, বাংলাদেশ এসোসিশেয়ন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) যৌথ আয়োজনে ‘পজিশনিং বাংলাদেশ; ব্র্যান্ডিং ফর বিজনেস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে দুইদিনব্যাপী এ কনফারেন্সের সমাপনী সেশনে এসব কথা বলেন উপস্থিত বক্তারা। সমাপনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা চেম্বারের প্রেসিডেন্ট আসিফ ইব্রাহিম। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা চেম্বারের সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সবুর এ খান (দায়িত্ব গ্রহণ করেননি), বেসিসের প্রেসিডেন্ট একেএম ফাহিম মাশরুর, বিল্ডের সিইও ফেরদৌস আরা বেগম এবং ক্যাটালিস্টের যোগাযোগ পরিচালক ফরিদা হুসেইন। ফেরদৌস আরা বেগম তার বক্তব্যে বলেন, কনফারেন্সে বাংলাদেশের অর্জন ও সম্ভাবনার দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা ও ঝুঁকি এবং তার সমাধান নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। যা অনুসরণ করে এসব সমস্যা পাড়ি দিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। কনফারেন্সের বিভিন্ন সেশনে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাত ও বিভিন্ন সম্ভাবনার দিকগুলো আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের পোশাক খাত, আউটসোর্সিং তথা আইটি খাত, সেবা খাত এবং অ্যাগ্রো প্রসেসিং খাতের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। গতকাল সন্ধ্যায় সমাপনী সেশনের আগে তিনটি সেশনে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। দিনের শুরুতে দরিদ্রদের জন্য বাজার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালাগের (সিপিডি) নির্বাহি পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভ্যালু চেইন বিশেষজ্ঞ ফ্রাঙ্ক লাসবি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ এবং বম্বে সুইটসের হেড অব মার্কেটিং দেবিদাস ডি ঘোষাল। বক্তারা বলেন, কৃষকরা যেন সরাসরি পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে পারে সেজন্য তাদের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও বাজার সম্পর্কে ধারণার উন্নয়ন করতে হবে। ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া এক্ষেত্রে বেশ কাজে দিতে পারে। দিনের দ্বিতীয় সেশনে বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির অভিজ্ঞতা শেয়ার নিয়ে একটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিপিআরসি’র নির্বাহি চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য রাখেন লাল তীর সিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আনাম, বাংলালিঙ্কের এসোসিয়েট জেনারেল ম্যানেজার মাহবুবুল আলম, সিপি’র বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মির্জা করিম বেগ এবং তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোক্তা আখতারুজ্জামান আল মনসুর। এসময় বক্তারা অবকাঠামোগত সমস্যা, অর্থায়নের সমস্যা সেচ সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তবে এসব সমস্যা সত্ত্বেও এ তারা কিভাবে ব্যবসায়িক অগ্রগতি অর্জন করেছেন সে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। দিনের তৃতীয় সেশনে আউট সোর্সিংয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য ভিত্তিক কিউবিট আর্টিস্টের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান ড. রিচার্ড সাইকস। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ওডেস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাট কুপার, সিবিআই নেদারল্যান্ডের ডিএমডি ডিক ডি মেন এবং অস্ট্রেলিয়ান বিপিও এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মার্টিন কনবয়। এসময় বক্তারা বলেন, আগামীতে বাংলাদেশ আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। এ খাতে বাংলাদেশের কর্মসংস্থানও হবে অনেক। তাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূর করতে এ খাত হতে পারে অন্যতম মাধ্যম। বক্তারা বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশের আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে আয়ের প্রবৃদ্ধি অন্য যেকোনো রফতানি খাতের চেয়ে বেশি। তা আরও অনেক বাড়ানো সম্ভব বলেও তারা উল্লেখ করেন।