ডাক্তারদের প্রতি

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪৬
ছাত্রাবস্থায় আমার জীবনের লক্ষ্য রচনা বাংলায় সবাই পড়েছে। কখনওবা বানিয়ে লিখলেও ডাক্তার হবার বাসনা অধিকাংশই লক্ষ্য হিসেবে সাজিয়ে নিয়েছে। কারণ হিসেবে দেখিয়েছে বাংলাদেশ জনবহুল এবং গরিব দেশ। এদেশের মানুষ সঠিক চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত। বিশেষভাবে তার নিজ এলাকায় কীভাবে স্বল্পমূল্যে কিংবা বিনা ফি অথবা বিনা খরচে চিকিত্সাসেবা দেয়া হবে তার ফিরিস্তি বেশ সাজিয়ে-গুছিয়ে লিখেছে। তাতে মনের সুপ্ত বাসনাটি ফুটে উঠেছে। তবে শেষ পর্যন্ত দু’-একজন সত্যিই এ পেশায় আসতে পেরেছে। ছাত্রাবস্থায় সত্যিকার সেবক হিসেবে তৈরির মানসিকতা নিয়ে যে রচনা লিখেছিল, ডাক্তার হবার পর তা আর মনে রাখেনি। এখন আর গ্রাম ভালো লাগে না। গ্রামে হয়তো তার ডাক্তারি পেশার মূল্যমান থাকে না। আজ এটাই বাস্তবতা। সরকার গ্রামে থাকার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ, এমনকি কঠোর হুঁশিয়ারি উপেক্ষিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেও বলেছেন, চিকিত্সকরা গ্রামে থাকতে চায় না। শহরে পয়সা বেশি, উন্নত জীবনযাপন করা যায়, রোগী দেখার ফি তুলনামূলক অনেক বেশি পাওয়া যায়, রোগীর পরীক্ষার ফি (টেস্ট) বেশি, এছাড়াও ক্লিনিক ব্যবসা, ফার্মাসির ব্যবসা বেশ জমজমাটভাবে পরিচালনা করা যায়। সুযোগ-সুবিধাও বেশি হাতের মুঠোয় এসে জমে। হয়তো এসবই গ্রামকে পছন্দহীনতায় ফেলেছে। ডাক্তারদের বলবো—আপনার স্বজন, আপনার এলাকাবাসী, আপনার নিকটজনই চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত। অর্থাভাবে আর দূরত্বের কারণে অনেকে চিকিত্সাসেবা নিতে পারে না। মানবিক দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করুন। গ্রামে ফিরে আসুন। কংকন কুমার সরকার, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা।