ভূরুঙ্গামারী-রংপুর মেইল বাস চলাচল ৪ বছর থেকে বন্ধ। সেই সুযোগ বুঝে লোকাল বাসগুলো যেখানে- সেখানে থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করে। বিড়ম্বনায় যাত্রীরা। গত ২০০৭ সালে রংপুর কুড়িগ্রামের জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, কুড়িগ্রাম জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির ত্রিপক্ষীয় সভার সিদ্ধান্তে ভুরুঙ্গামারী-রংপুর মেইল বাস চালু হয়। গত ০৫ জানুয়ারি ২০০৯ কুড়িগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি কোন আলোচনা না করেই কুড়িগ্রাম জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির গাড়িগুলো কুড়িগ্রাম বাস টারমিনালে আটক রেখে রাতে ফেরত পাঠায়। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ভুরুঙ্গামারী-রংপুর মেইল বাস সার্ভিস। গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১০ কুড়িগ্রাম জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি খায়রুল আলম বাদি হয়ে কুড়িগ্রাম সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেন। মামলা নং ২৪৩/১০। বিজ্ঞ আদালত ভুরুঙ্গামারী-রংপুর মেইল বাস চলাচল করার আদেশ দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর উপর মেইল বাস আটকের উপর অস্থায়ী ও পরে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১০ মেইল বাস চলাচল শুরু হলে আদালতের আদেশ অমান্য করে কুড়িগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় একদিন পর তা বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় তারা এ রুটে চলাচলকারী তাদের গাড়িগুলো তুলে নেয়। রংপুর জেলার কোন বাস কুড়িগ্রামে ঢুকতে না দিয়ে যোগাযোগ ক্ষেত্রে অচলাবস্থার সৃষ্টি করে। তখন থেকে ভুরুঙ্গামারী-রংপুর মেইল বাস চলাচল বন্ধ । গত ০৩ মার্চ ২০১০ কুড়িগ্রাম জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতি কুড়িগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নামে আদালত অবমাননার একটি মামলা করে। যাহার নম্বর ১৩/১০। মামলাটি এখনও বিচারাধীন।
কুড়িগ্রাম জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি খায়রুল আলম বলেন, গত ১৭ নভেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রী নাগেশ্বরীতে পথসভা করেন। আমরা সেখানে বিষয়টি উপস্থাপন করি। তিনি ২৪ নভেম্বরের মধ্যে চালুর আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। উত্তর ধরলা সংগ্রাম কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাগেশ্বরী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ব্যাপারী বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ একটি গোষ্ঠির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। তাদের সদিচ্ছার অভাবে ভুরুঙ্গামারী-রংপুর মেইল বাস সার্ভিস দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ। আগামীতে চলমান এ সংকট নিরসন ও মেইল বাস চালুর দাবিতে আমরা কঠোর কর্মসূচি হাতে নেব।
