জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের বিশেষ ইউনিট হচ্ছে

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৩
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবাধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ বাহিনীকে আরও সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির তিনদিনব্যাপী শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন উত্সবের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে আরো বলেন, আমরা রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে জামায়াত-শিবির মাঠে নেমেছে। পরিকল্পিতভাবে পুলিশ বাহিনীর ওপর তারা আক্রমণ চালাচ্ছে। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য ধৈর্য ও সাহসের সাথে এ অপতত্পরতা রোধ করে আইনের শাসনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। দেশে জঙ্গিবাদ দমনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ন্যাশনাল পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেররিজমের একটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের অপতত্পরতা রোধ এবং জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের এ বিশেষায়িত ইউনিট কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পুলিশ বাহিনীর জন্য ২ হাজার ৬শ ৯১টি যানবাহন ক্রয় করেছি। ২টি হেলিকপ্টার ক্রয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ৩৭টি থানা ও ৪টি তদন্ত কেন্দ্রের জন্য ভবনসহ ৫৩টি বিভিন্ন ধরনের ভবন ইতিমধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে। কর্তব্যরত অবস্থায় কোন পুলিশ সদস্য আহত হলে অনুদান সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা এবং নিহত হলে অনুদান ৩ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসাবে বিভিন্ন পদকের সম্মানী ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্সে’ পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। জাতির পিতা স্বাধীনতার পর পরই একটি আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলেন। আমরা জাতির পিতা কর্তৃক প্রদত্ত আইজিপি’র র্যাংক ব্যাজ পুনঃপ্রবর্তন করেছি। পুলিশ বিভাগে ৫টি গ্রেড-১ পদ সৃষ্টির কাজ চলছে। এসআই/সার্জেন্ট পদকে ৩য় শ্রেণীর পদ থেকে ২য় শ্রেণীতে এবং ইন্সপেক্টর পদকে ২য় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীর নন-ক্যাডার পদে উন্নীত করেছি। আমরা পুলিশের জনবল বাড়াতে ৭৩৩টি ক্যাডার পদসহ ৩২ হাজার পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছি। ইতিমধ্যে বহুমাত্রিক অপরাধ মোকাবেলায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, ক্যাম্পাস পুলিশ, মেরিন পুলিশ গঠনের কাজ এগিয়ে চলেছে। আমরা পুলিশের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনায় সমপ্রতি ৩০টি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের মঞ্জুরী প্রদান করেছি। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করছে। নারী পুলিশের ‘ফরমেড পুলিশ ইউনিট’ হাইতি ও কঙ্গোতে কাজ করছে। বাংলাদেশ শান্তি মিশনে পুলিশ প্রেরণকারী শীর্ষ দেশ। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। প্রধানমন্ত্রী ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ও বর্তমান সদস্যসহ হেরিটেজ প্যারেডে অংশগ্রহণকারী সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিজয়ের এ মাসে আমি গভীরভাবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর অবিসংবাদিত নেতৃত্বে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীনতা। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার সকালে একাডেমি প্যারেড গ্রাইন্ডের অদূরে অবতরণ করে। এরপর প্রধানমন্ত্রী প্যারেড গ্রাউন্ডের মঞ্চে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী হেরিটেজ প্যারেডে অভিবাদন গ্রহণ, কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্রধান অতিথির উদ্বোধনী ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী মনোমুগ্ধকর হর্স-শো, ব্যান্ড শো, অডিও ভিজুয়াল প্রদর্শনী উপভোগ করেন এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির শতবর্ষ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক (টুকু), ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী, রাসিক মেয়র এএইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার, পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ নাঈম আহম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। হেরিটেজ প্যারেড পরিচালনা করেন পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান এবং ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ছালেহউদ্দীন।