ইকোনমিস্টের বিরুদ্ধে বিচারকের ই-মেইল হ্যাক করার অভিযোগ

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৫
ব্রিটেনের প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের বিরুদ্ধে আদালতের কাজে হস্তক্ষেপ ও বিচারকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করার অভিযোগ এনে তাদেরকে শোকজ নোটিস জারি করেছে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ইকোনমিস্টের দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরো প্রধান অ্যাডাম রবার্ট ও পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক রব জিফোর্ডকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১(৪) ধারা অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না নোটিসে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হকের কম্পিউটার এবং ই-মেইল হ্যাক করে ইকোনমিস্ট যে তথ্য সংগ্রহ করেছে তা গোপন রাখতে পত্রিকাটিকে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদেশে বলা হয়েছে, এ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এবং অন্য দুই সদস্য বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। এ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার পর যখন চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিয়োগ দেয়া হয় তখন উন্মুক্ত আদালতে এটা বলা হয়েছে যে, ট্রাইব্যুনাল আইনটি তাদের জন্য নতুন। এটা বোঝার জন্য অন্য ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ও আইন পর্যবেক্ষণ এবং উভয়পক্ষের আইনজীবীদের এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের অগ্রগতি সম্পর্কে মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের বিশেষজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তার সহযোগিতা নিয়েছেন। বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান তার সঙ্গে কথা বলেছেন। এ উদ্দেশ্যে তারা ‘স্কাইপি’র মাধ্যমে আলোচনা করেছেন। দুই, তিনদিন আগে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান দেখতে পান তার কম্পিউটারের সঙ্গে ই-মেইল এবং স্কাইপি একাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে লন্ডনভিত্তিক দ্যা ইকোনমিস্ট থেকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে ফোন করে বলা হয়, তিনি ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে যে আলোচনা করেছেন তা ইকোনমিস্টের কাছে আছে এবং এ ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানকে প্রশ্ন করা হয়। চেয়ারম্যানকে এও বলা হয়, তিনি আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে স্ক্যাইপিতে কথা বলেছেন এবং ই-মেইলের মাধ্যমে তার পরামর্শ নিয়েছেন। ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে যেসব ই-মেইল করেছেন তাও ইকোনমিস্টের কাছে রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের ই-মেইল এবং স্কাইপি একাউন্ট হ্যাক করে ব্যক্তিগত তথ্য নেয়া ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লংঘন এবং সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টার শামিল। আইন অনুযায়ী বিচারপতিকে অন্য কেউ ফোন করতে পারে না। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এও জানতে পেরেছেন, ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনেরও ই-মেইল, স্ক্যাইপি একাউন্টসহ কম্পিউটার হ্যাক করা হয়েছে। এটা পরিষ্কার যে যারা যুদ্ধাপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে চান তারাই এ কাজে জড়িত। এটা চলতে দেয়া যায় না। এ আদেশের একটি কপি আইজিপি এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী আদেশের জন্য ২৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।