কাতারের দোহায় আজ শুক্রবার শেষ হচ্ছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত কানাডা, আমেরিকা, রাশিয়া ও জাপান কিয়োটো প্রটোকলে স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়নি। যেটা ছিল কার্বন নির্গমন কমানোর আইনগত বাধ্যবাধকতা। এই ডিসেম্বরেই এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। উন্নত দেশগুলো অনুন্নত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত কিন্তু কখন কিভাবে সেটা দেয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তনে দীর্ঘ মেয়াদী যে ক্ষয়ক্ষতি তার অর্থায়ন নিয়েও চুপ উন্নত দেশগুলো। গতকাল পর্যন্ত এই অর্থায়নের ব্যাপারে কোন নিশ্চয়তা দেয়নি দেশগুলো।
সন্মেলনের গত দুদিন ধরে চলেছে এই অর্থায়ন নিয়ে দর কষাকষি। কোন বিরতি ছাড়াই। বুধবার মন্ত্রী পর্যায়ের যে আলোচনা শুরু হয়েছিল তাতে বিরতি পড়ে বৃহস্পতিবার ভোরে। কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে সে আলোচনা শুরু হয়েছে আবার। আলোচনা হচ্ছে পর্দার আড়ালেও। যে যার অবস্থান থেকে দলভারি করার চেষ্টা করছেন। নিজের মতকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। আর অপেক্ষা করছেন আজ শুক্রবার রাতের। আজই হয়তো কোন সিদ্ধান্ত হবে। দ্বিতীয় মেয়াদে কিয়োটো প্রটোকল হবে। দীর্ঘ মেয়াদে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অর্থায়ন করবে শিল্পোন্নত দেশগুলো।
সন্মেলনে উন্নত দেশ হিসেবে জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা অনেক বিষয়ে একমত হচ্ছে। কিন্তু কোন বিষয়েই নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না। দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষয়ক্ষতির আলাদা অধ্যায় করার দাবি উন্নয়নশীল দেশগুলোর। কিন্তু উন্নত দেশগুলো চায় এটি অভিযোজনের মধ্যে রাখতে। এসব নিয়েই আলোচনাকে দীর্ঘ মেয়াদী করে তুলছে তারা। এক কথায় সময় ক্ষেপণ করছে। ১৯৫টি দেশের মন্ত্রীরা এই আলোচনার টেবিলে। সম্পূর্ণ দুই ভাগে বিভক্ত এই টেবিল। একদিকে হাতে গোনা শিল্প উন্নত কয়েকটি দেশ অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশ।
বাংলাদেশের পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ গতকাল বলেন, কিয়োটো প্রটোকলের বিষয়ে একটা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে আশা করি। তিনি জানান, দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বাংলাদেশসহ এলডিসিভুক্ত ও ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে চারটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দাবি করেছে। এগুলো হচ্ছে- দুর্যোগ ঝুঁকি কমানো (ডিআরআর), ক্ষতিপূরণ, আন্তর্জাতিক বীমা ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসন। তবে ধনী রাষ্ট্রগুলো ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বসানের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ সমঝোতার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব বিষয়েই আলোচনা চলছে ধীর গতিতে। আশাবাদী হওয়ার মত কিছুই দেখা যাচ্ছে না। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে কোন কিছুতেই আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া যাবে না। তবে শেষ সময় পর্যন্ত সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সাত সংগঠনের অসন্তোষ
এদিকে দোহা সম্মেলনের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের সাতটি সংগঠন। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ধনী দেশগুলোর, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সিসিডিএফ’র গোলাম রাব্বানী। বক্তব্য রাখেন ইক্যুইটিবিডি’র রেজাউল করিম চৌধুরী, সিজিসি/সিএআরএল’র ড. আহসান উদ্দিন আহমেদ, বাপা’র ড. আব্দুল মতিন প্রমুখ। তারা বলেন, যদি দোহা থেকে কোনও সিদ্ধান্ত বা চুক্তি না আসে তাহলে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়বে এবং এতে করে গরিব দেশগুলোতে জলবায়ু গণহত্যাকেই মেনে নেয়া হবে।
