বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদার শতবর্ষে পদার্পণ উত্সব গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। সকালে একাডেমি প্রাঙ্গণে এই উত্সবের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল হাজারো নবীন ও প্রবীণ পুলিশ অফিসারের পদচারণায় মুখরিত ছিল একাডেমি ক্যাম্পাস। তিন দিনব্যাপী এই উত্সবের উদ্বোধনী দিনের প্রধান আকর্ষণ ছিল হেরিটেজ প্যারেড। মোঘল আমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন আমলের পোশাকে সেজেছিল বাংলাদেশ পুলিশের ১০টি দল। সঙ্গে ছিল বাংলাদেশর জাতীয় পতাকা, পুলিশের পতাকা, পুলিশ একাডেমির পতাকা ও ২৭টি ইউনিটের পতাকাবাহী ব্যান্ড দল। প্যারেড গ্রাউন্ডের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশ সাজানো হয়েছিল প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মেজর এইচ চেমনী থেকে শুরু করে স্বাধীনতা পরবর্তীকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্যারেডে অভিবাদন গ্রহণের ছবি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি দিয়ে।
১৯১২ সালে মেজর এইচ চেমনির প্রস্তাবে সারদায় পুলিশ ট্রেনিং কলেজ স্থাপিত হয়। পরে একাডেমি ও বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে রূপান্তরিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভারতের অবিভক্ত বাংলা, আসাম ও ব্রিটেনের সব পদমর্যাদার, পাকিস্তান পুলিশ সার্ভিসের এবং বাংলাদেশ পুলিশের সবরকম প্রশিক্ষণ এখানে অনুষ্ঠিত হয়।
একাডেমি সূত্র জানায়, উত্সবের প্রথম দিন হেরিটেজ প্যারেড, হর্স শো, ব্যান্ড শো, অভিও ভিজুয়াল শো, স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন, বৃক্ষরোপণ, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। আজ শুক্রবার দ্বিতীয় দিন সেমিনার, মেলা, নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কাল শনিবার তৃতীয় ও সমাপনী দিনে হর্স শো, স্মৃতিচারণ ও উন্মুক্ত কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সহস্রাধিক দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত রয়েছেন।
একাডেমির অধ্যক্ষ নাঈম আহমেদ জানান, ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের ‘মাস্টার্স ইন পুলিশ সায়েন্স’ কোর্স চালু একাডেমিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। একাডেমির শতবর্ষে পদার্পণ একটি মাইলফলক। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ অনেক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে একাডেমির নাম জড়িত। স্বাধীনতা যুদ্ধে সারদা পুলিশ একাডেমির ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী শহীদ হন।
