গার্মেন্টসে অগ্নি নিরাপত্তা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ছিল ওয়ালমার্ট

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৬
বাংলাদেশের পোশাক তৈরি কারখানাগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর একটি উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিল বিশ্বের বৃহত্ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস বুধবার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০১১ সালের এপ্রিলে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে কারখানার বৈদ্যুতিক ও অগ্নি নিরাপত্তার জন্য বাড়তি অর্থ আদায়ের প্রস্তাবে ওয়ালমার্টের প্রতিনিধি আপত্তি জানিয়েছিলেন। ওই বৈঠকে অংশ নেয়া দুই কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, তৈরি পোশাক কারাখানার বৈদ্যুতিক ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে ‘গ্লোবাল রিটেইলারদের’ কাছ থেকে বেশি অর্থ আদায়ের একটি উদ্যোগ থামাতে মূল ভূমিকা রাখেন ওয়ালমার্টের প্রতিনিধি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী ওয়ালমার্টকে পোশাক সরবরাহকারী তিনটি মার্কিন কোম্পানি তাজরীন ফ্যাশনসকে দিয়ে কাজ করাচ্ছিল। এপ্রিলের ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী ওয়ালমার্টের পরিচালক শ্রীদেবী কালাভাকোলানু বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার পোশাক কারখানার বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে বিশাল ও ব্যয়বহুল। এই পরিমাণ বিনিয়োগ করা ব্র্যান্ডগুলোর জন্য আর্থিকভাবে বাস্তবসম্মত হবে না। ওই সভায় বিভিন্ন দেশের রিটেইলার, বাংলাদেশের কারখানা মালিক, সরকারি কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আমস্টারডামভিত্তিক ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইনের আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী ইনেকে জেলডেনরাস্ট বলেন, বৈঠকে ওয়ালমার্টই ওই উদ্যোগের সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওয়ালমার্টের মুখপাত্র কেভিন গার্ডনার নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, বাংলাদেশে ওই ওয়ালমার্ট কর্মকর্তার এ মন্তব্য ‘অপ্রাসঙ্গিক’। ওয়ালমার্ট বাংলাদেশ সরকার, কারখানা ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে অগ্নি নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন মুখপাত্র। নিউ ইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমে তাদের হাতে তাজরীন ফ্যাশনসের কিছু নথিপত্র এসেছে। গত ২৪ নভেম্বর রাতে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তুবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশনস ভবনে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১২ জন শ্রমিকের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় কাজের পরিবেশ ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। তখন ওয়ালমার্ট এক বিবৃতিতে জানায়, তাজরীনে অগ্নিকাণ্ড ও তাদের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক নিয়ে তারা ‘বিব্রত’। একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের অনুমোদন ছাড়াই তাজরীন ফ্যাশনসকে পোশাক তৈরির কাজ দেয়। ফলে ওই সরবরাহকারীর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের কথাও জানায় ওয়ালমার্ট। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানের নাম তারা বিবৃতিতে উল্লেখ করেনি। জুলাইয়ের এক নথি থেকে দেখা যায়, ওয়ালমার্টের ফেডেড গ্লোরি ব্র্যান্ডের শর্টস তৈরির জন্য সাকসেস অ্যাপারেলস তাজরীনকে কাজ দেয়। আগুন লাগার পর কারখানার ভেতর থেকে তোলা ছবিতে এক জোড়া ফেডেড গ্লোরি শর্টসের নকশাও দেখা যায়। সাকসেস অ্যাপারেলস প্রায়ই বাংলাদেশি পোশাক তৈরি প্রতিষ্ঠান সিমকোকে দিয়ে কাজ করাতো বলেও একটি নথিতে তথ্য পাওয়া যায়। সিমকো বাংলাদেশের হাত ঘুরেই ওয়ালমার্টের পোশাক বানানোর কাজ পায় তাজরীন। ফলে তাজরীনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না বলে ওয়ালমার্ট যে দাবি করছে তা সঠিক নয় বলে মনে করেন ওয়াশিংটনভিত্তিক ওয়ার্কার রাইট কনসর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক স্কট নোভা। তিনি উল্লেখ করেন, ওয়ালমার্টকে না জানিয়ে তাজরীনকে কাজ দেয়া হয়েছিল বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। ওই কারখানা থেকে বেশ কয়েকটি মার্কিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের জন্য পোশাক বানিয়ে নিচ্ছিল। গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য বিখ্যাত ওয়ালমার্ট এ ব্যাপারটি জানতো না, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। গত এপ্রিলের বৈঠকেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা নোভাই এ নথিগুলো নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেন।