পাশ্চাত্যে বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন দেশে ক্লাসরুমে শিক্ষাদানের একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো ‘শো অ্যান্ড টেল’। এ ধরনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কখনও শিক্ষক আবার কখনও বা শিক্ষার্থীরা কোনো একটি বস্তু দেখিয়ে সবার সামনে সেটি বর্ণনা করেন। তবে অতি সম্প্রতি এই ‘শো অ্যান্ড টেল’কে কেন্দ্র করেই রীতিমতো হুলস্থুল এক কাণ্ড ঘটে গেছে অস্ট্রেলিয়ার এক স্কুলে। আর ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন সবে মাত্র ১১তে পা দেওয়া এক স্কুল ছাত্রী তার ‘শো অ্যান্ড টেল’-এর উপকরণ হিসেবে একটি হ্যান্ড গ্রেনেড নিয়ে সবার সামনে হাজির হয়। যদিও এটি যে সক্রিয় একটি গ্রেনেড তা যেমন জানা ছিল না শিশুটির পিতামাতার তেমনি একে আসল গ্রেনেড হিসেবে সনাক্ত করতে পারেননি ক্লাস শিক্ষকও। শেষটায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক এটিকে সক্রিয় গ্রেনেড হিসেবে ধারণা করার পর অনেক নাটকীয়তার মধ্য দিয়েই অবসান ঘটে আলোচিত এই ‘শো এন্ড টেল’ ইভেন্টের। ঘটনাটি ঘটে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস্ এর নিউক্যাসেলে অবস্থিত হান্টার ক্রিশ্চিয়ান স্কুলে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেনেডটির উপরের দিকে কোনো পিন না থাকায় ওই মেয়েটির মা-বাবা এটিকে একটি নকল বা খেলনা গ্রেনেড হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন। এমনকি একই ধারণা ছিল ওই ছাত্রীর ক্লাসে থাকা ক্লাসশিক্ষকেরও। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বয়ড এলেন গ্রেনেডটি দেখার সাথে সাথেই সন্দিহান হয়ে খবর দেন স্থানীয় পুলিশ বিভাগকে। একই সাথে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেন স্কুলের ৪৫০ শিক্ষার্থী আর ৬০ জন শিক্ষককেও। এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে হাজির হওয়া স্থানীয় পুলিশও পরে নিশ্চিত করে যে, প্রধান শিক্ষক বয়ড এলেনের আশঙ্কা অমূলক ছিল না। এদিকে ঘটনার পর দারুণভাবে ভীত হয়ে পরা ওই ছাত্রীকে ইতোমধ্যেই মানসিক সহয়তা দেওয়া হচ্ছে স্কুলের পক্ষ থেকে। ঘটনাটির পেছনে তার যে কোনো দায় নেই সেটিও বুঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কালীন বলে ধারণা করা এই গ্রেনেডটির উত্স কোথায় তা নিয়ে ইতোমধ্যেই তদন্তে নেমেছে নিউ সাউথ ওয়েলস এর পুলিশ।
