পরিত্যক্ত জমিতে বন্যাসহিষ্ণু ব্রি-৫২ ধান

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৫২
গাইবান্ধা জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, ঘাঘট, করতোয়া, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, নলেয়া, মানস, বাঙালি, সারাই ও আখিরা নদী। জেলায় নদীর মোট আয়তন প্রায় ১০৭ দশমিক ৭১ কি. মি.। ফলে জেলার নদী তীরবর্তী এসব এলাকার নিচু জমিতে বছরে মাত্র একটি ফসল ইরি-বোরো ধান উত্পাদন হয়। আমন মৌসুমে অতিবৃষ্টি কিংবা বন্যার কারণে ওই জমিগুলো থাকে পানিতে নিমজ্জিত। কিন্তু তারপরও চলতি বছর আমন মৌসুমে ২ শত ৭৬ জন কৃষক তাদের ওইসব এলাকার প্রায় সাড়ে তিন’শ বিঘা পরিত্যক্ত জমিতে বন্যাসহিষ্ণু ব্রি-৫২ ধান উত্পাদন করেছেন। খাদ্য নিরাপত্তা বিধানে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট বন্যাসহিষ্ণু ব্রি-৫২ ধান উদ্ভাবন করে। পরে তাদের সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন আরডিআরএস বাংলাদেশ এই জাতের ধান গাইবান্ধায় সম্প্রসারণে কৃষকদের উত্সাহিত করতে ২০১০ সাল থেকে কাজ করছে। গাইবান্ধা সদরের বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খামার টেংগরজানি গ্রামের কৃষক জুলফিকার আলী জানান, চলতি বছর তিনি ৭ বিঘা জমিতে এ জাতের ধান চাষ করে ছিলেন। বিঘাপ্রতি ১৮ মণ করে ধান উত্পাদন হয়েছে। এর আগে এসব জমি প্রায় বছর বর্ষা মৌসুমে পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ইরি-বোরো ধান ছাড়া আর অন্য কোন ফসল উত্পাদন হত না। গাইবান্ধা সদরের ঘাঘোয়া ইউনিয়নের দারিয়পুর গ্রামের কৃষক সাবেদ আলী মন্ডল জানান, ভাদ্র মাসে অবিরাম বৃষ্টির কারণে বন্যায় ওই এলাকার নিচু জমির আমন ধান নষ্ট হয়। তখন নতুন করে আমন ধানের চারা রোপণের সময় আর থাকে না। তাই চলতি বছর ৫ বিঘা জমিতে তিনি বন্যাসহিষ্ণু ব্রি-৫২ ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে তার জমির ধান ৯ দিন পানিতে নিমজ্জিত থাকার পরও এ বছর তার ধানের কোন ক্ষতি হয় নাই। আরডিআরএস বাংলাদেশের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আরডিআরএস বাংলাদেশ বন্যাসহিষ্ণু ব্রি-৫২ ধান চাষ করতে চলতি বছর জেলার গাইবান্ধা সদর, সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী উপজেলার ২৭৬ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ, বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করে সহযোগিতা করেছেন। গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাক জানান, জেলায় মোট চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৬২৮ হেক্টর। একফসলি জমি ১৮ হাজার ৩৯৩ হেক্টর, দুই ফসলি ১ লক্ষ ৮হাজার ৭৫৮ হেক্টর, তিন ফসলি জমি ৩৪ হাজার ০৬ হেক্টর। জনসংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের আবাদি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে আসছে। পতিত ও একফসলি জমিতে এভাবে ফসল ফলানো না হলে দেশে খাদ্যের সংকট দেখা দেবে। এ উপলক্ষে আমন মৌসুমে পতিত জমিতে এ জাতের ধান চাষে কৃষকদের উত্সাহিত করতে গত সোমবার গাইবান্ধা সদর উপজেলার খামার টেংগরজানি গ্রামের কৃষক আবু সায়েম মিয়ার উঠানে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।