প্রস্রাব ধারণে অক্ষমতা

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৪০
কোন কারণে হঠাত্ বা অনবরত, অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাব বেড়িয়ে আসলে ডাক্তারী ভাষায় ইউরিনারী ইনকনটিন্যান্স বা প্রস্রাব ধারণে অক্ষমতা বলে। কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে, দূরের যাত্রায়, বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে বেড়াতে গেলে হঠাত্ প্রস্রাব ধারণ করতে না পারায় কাপড় নষ্ট হয়ে গেলে কিংবা অনবরত প্রস্রাব ঝরতে থাকলে বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজনের সান্নিধ্যে থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে বাধ্য হয়। বেশী একাকী মনে হয় তখন। বয়স বৃদ্ধি হলে এমনটি হওয়ার কথা, কিংবা সারাটা জীবন এ সমস্যা নিয়েই থাকতে হবে তাও নয়। প্রস্রাব ধারণের অক্ষমতা কয়েক ধরণের। মেনোপোজ ও সন্তান প্রসব (মেয়েদের ক্ষেত্রে), প্রোস্টেট সমস্যা, (পুরুষের ক্ষেত্রে), কিছু ওষুধ সেবন এবং অতি স্থূলকায় শরীরের কারণে প্রস্রাব ধারণে অক্ষমতা দেখা দিতে পারে। হাচি ও কাশিতে প্রস্রাব ধারণে অক্ষম হলে ‘স্ট্রেস ইনকনটিনেন্স’ বলে। প্রস্রাবের বেগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রস্রাব যদি বেড়িয়ে আসলে তাকে ‘আর্জ ইনকনটিন্যান্স’ বলে। অভার একটিভ ব্লাডার সংক্ষেপে ওএবি হলে ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবের বেগ হলেই প্রস্রাব করতে যেতে হবে। এটা অত্যন্ত বিরক্তির এবং প্রস্রাব ধারণে অক্ষমও বটে। সাধারণত: স্ট্রেস ও আর্জ ইনকনটিনেন্স সমস্যা দু’টি বেশী হয়ে থাকে। অনেক সময় এক সঙ্গেও থাকতে পারে। চিকিত্সক রোগীর কাছ থেকে রোগের বিস্তারিত ইতিহাস, কি কি ওষুধ সেবন করেছেন এবং কখন, কতবার দিনে এমন অবস্থা হয় জিজ্ঞেস করতে পারেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষা করাতে পারেন। যেমন-প্রস্রাবে ইনফেকশন, মূত্রথলিতে পাথর, প্রস্রাব করার পর প্রস্রাব মূত্রথলিতে থেকে যায় কিনা, ধীরে ও কম বেগে প্রস্রাব বাহির হয় কিনা, প্রোস্টেট গ্রন্থি বৃদ্ধি পেয়েছে কিনা এবং অন্যকোন অস্বাভাবিকতা আছে কিনা যাচাই করতে পারেন পরীক্ষার মাধ্যমে। অস্বাভাবিকতা নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা যেমন-সিসেটাস কপি, ইউরোডাইনামিক স্ট্যাডি, মূত্রথলির স্ট্রেস টেস্ট করাতে পারেন। চিকিত্সা পদ্ধতি কারণ অনুসারে চিকিত্সা পদ্ধতি ভিন্ন হয়। কিছু ওষুধ সেবনে যেমন-এন্টিকলিনার জিকস্, ট্রাইসাইক্লিক, এন্টিডিপ্রেসেন্ট মূত্রথলির পেশীকে শিথিল করে। ফলে প্রস্রাব ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায়। কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন-মুখ শুকিয়ে যাওয়া, দুর্বলতা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। পুরুষের ক্ষেত্রে আলফা ব্লকার সেবনে মূত্রথলির মুখের পেশীকে শিথিল করে এবং ৫-আলফা রিডাকটেজ সেবনে প্রোস্টেট সংকুচিত হয়ে যায়। মহিলাদের স্ট্রেস ইনকনটিনেন্স বা পীড়ন জনিত প্রস্রাব ধারণে অক্ষমতার জন্য মাসিকের রাস্তায় প্রেসারি ডিভাইস দিয়ে মূত্রথলির মুখ ও প্রস্রাবের নলকে চাপে রাখার ফলে কম লিকেইজ হয়। তাছাড়া কলাজেন জাতীয় পদার্থ ইনজেকশন দিয়ে স্লিং বা ফিঙ্গা সাসেপনশন সার্জারীর মাধ্যমে প্রস্রাব ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি সম্ভব। নার্ভের মধ্যে ব্যথামুক্ত মৃদু বিদ্যুতে উদ্দীপনা বা স্টিমুলেশন দিয়ে প্রস্রাব ধারণে অক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। ফলে মূত্রথলি ঘন ঘন সংকুচিত হওয়া হ্রাস পেয়ে প্রস্রাব ঝরা বন্ধ হয়ে যায়। পুরুষের প্রোস্টেট বৃদ্ধির ফলে মূত্রথলিতে অতিরিক্ত প্রস্রাব জমে ‘অভার ফ্লো ইনকনটিনেন্স দেখা দেয়। এসব ক্ষেত্রে ওষুধ কিংবা সার্জারী কার্যকরী। প্রস্রাব ধারণে অক্ষমতায় একজনকে সমাজ থেকে আলাদা করে ফেলে। ফলে কিছু রুটিন পরিবর্তন ও সুচিকিত্সায় নিজেকে সমাজের মাঝে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।