দোহাজারী-ঘুমধুম রেললাইন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ কাজ স্থগিত করা হয়েছে। অপ্রতুল বরাদ্দের কারণ দেখিয়ে এ প্রকল্পের মহাব্যবস্থাপক সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে পত্র লিখে রেল লাইনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কাজ স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। অথচ বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ২০১০ সালে এই প্রকল্পটি একনেকে গৃহীত হয়েছিল। এতদিন পর ভূমি অধিগ্রহণ কাজ বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তে কার্যত পুরো প্রকল্পটিই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দোহাজারী থেকে রামু, কক্সবাজার ও ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন বা মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পটি ২০১০ সালের ৬ জুলাই একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) অনুমোদন লাভ করে। ১২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ বাস্তবায়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮৫২ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। কিন্তু প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে বিপাকে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। শেষ পর্যন্ত এই কারণে ভূমি অধিগ্রহণ কাজ স্থগিত করা হয়েছে।
গত ৫ নভেম্বর রেল বিভাগের এই প্রকল্পের মহাব্যবস্থাপকের পক্ষে খায়রুল আলম কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত এক পত্রে উল্লেখ করেন, স্থানীয় সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে স্বল্প বরাদ্দ হতে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় মেটানো সম্ভব নয়। তাই ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ঐ পত্রে আরো বলা হয়, ভূমি অধিগ্রহণ খাতে মাত্র ৩১২ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকার বরাদ্দ আছে। অথচ চট্টগ্রাম জেলার ২৮০ দশমিক ৬১ একর ভূমি অধিগ্রহণে ৩৯১ কোটি ৩৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা এবং কক্সবাজার জেলার ৯৬৬ দশমিক ৫৪৩ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য কমপক্ষে ৩১৪ কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকার বরাদ্দ দরকার। এছাড়া জমির মূল্য আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা যায়, পত্রটি নভেম্বর মাসের ১২ তারিখ কক্সবাজারে এসে পৌঁছায়। এরপরই প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রকল্পের কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
দোহাজারি ঘুমঘুম রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ১২৬ দশমিক ৫৪৭ একর, কক্সবাজার সদর উপজেলার ১১৮ দশমিক ৫২০৬ একর এবং চকরিয়া উপজেলায় কমবেশি ৪২২ দশমিক ৯৮ একর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে তা অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব গত বছরের ১২ জুলাই ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রস্তাবটি দীর্ঘ ৮ মাস অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকার পর অপ্রতুল বরাদ্দের কারণ প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হল। এতে কার্যত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়েই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
