কালিয়াকৈরে কবিয়ালদের দুর্দিন

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৮
এককালে কবিয়ালদের অন্যতম চারণভূমি হিসাবে খ্যাত কালিয়াকৈরে এখন চলছে কবিয়ালদের দুর্দিন। সৌখিন আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষকের অভাবে তারা এখন কোণঠাসা। কবিতার সুর আর ছন্দে তাদের প্রশ্ন আর উত্তরের লড়াই এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না। পপ গান আর সিনেমার চটুল গানের ভিড়ে তারা এখন হতোদ্যম হয়ে পড়েছেন। বছরে ২/৩ জন সৌখিন আয়োজক ছাড়া তাদের আর ডাকার মানুষ নেই। অর্ধভুক্ত ও অভুক্ত কবিয়ালদের কবিতার সুর ও ছন্দময় লড়াই দেখতে এখন আর আগের মতো দর্শক হচ্ছে না। তাদের গলায় সোনার মেডেল বা শত টাকার নোটের মালাও পরায় না কেউ। কাবিয়ালদের গুরু ছিলেন কালিয়াকৈর পালপাড়ার ঠাকুরবাড়ির মুকুন্দ চক্রবর্তী। কবিতার ছন্দ আর সুরে তার ছিল অসাধারণ দক্ষতা। তার জ্বালাময়ী কবিতা আর নৃত্যছন্দে আসরে বিরাজ করতো পিনপতন নীরবতা। তাল, লয়, সুর আর ছন্দে তার দোহারীরা ছিলেন যোগ্য কবিয়ালের যোগ্য উত্তরসূরি। প্রথিতযশা এই কবিয়ালের খ্যাতিমান ছাত্র কবিয়াল পূর্ণ সরকার, কবিয়াল মোহন সরকার, কবিয়াল ননী সরকার, কবিয়াল উপেন্দ্র সরকার প্রমুখ সমগ্র বঙ্গ দেশের আসরে আসরে গান শুনিয়ে দেশবাসীকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে তুলেছিলেন। কবিয়াল পূর্ণ সরকার বেতারে নিয়মিত কবিগান গাইতেন। কবিয়াল পূর্ণ সরকারের ছাত্ররা আজও কালিয়াকৈরে ও বাইরে কবিগানের আসর টিকিয়ে রেখেছেন। তাদের মধ্যে কবিয়াল বাপুলাল সরকার, কবিয়াল ডা. মহিউদ্দিন সরকার, কবিয়াল নিতাই সরকার এখনও পেশা হিসাবে না হলেও নেশা হিসাবে কবিগানকে আঁকড়ে ধরে আছেন। তাদের পেটে ভাত নেই, অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী।