রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জুড়ে এখন সাজ সাজ রব। পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে মতিহারের সবুজ চত্বর। ঝুল-কালি, ময়লার দাগ ঝেড়ে-মুছে বার্নিশ করা হয়েছে সকল ভবনের দেয়াল। অর্ধশতাধিক বছরের পুরনো সব গাছের গোড়ায় পড়েছে চুনের সাদা প্রলেপ। ঝরা পাতা, ছেড়া কাগজ, আরো সব আবর্জনা ঝেটিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে সব সড়ক-মেঠোপথ। অষ্টম সমাবর্তনের জন্য এখন পুরো প্রস্তুত মতিহার ক্যাম্পাস। দীর্ঘ ১৪ বছর পর আগামীকাল রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই সমাবর্তন। আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামের সুদৃশ্য মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সমাবর্তনের চূড়ান্ত মহড়া।
এদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও উত্তরাঞ্চলের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠের সমাবর্তন সুষ্ঠু-সুন্দর ও নিরাপদে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সোবহান সাংবাদিকদের মাধ্যমে আগামীকালের (৯ ডিসেম্বর) সড়ক অবরোধ কর্মসূচি থেকে রাজশাহীকে মুক্ত রাখার জন্য ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ইতিহাস ঘেটে জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৬ সালে। এরপর ১৯৬০, ’৬১, ’৬২, ’৬৫, ’৭০, ৯৮ সালে যথাক্রমে ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের ২৯ নভেম্বরের সপ্তম সমাবর্তন ছাড়া অন্য সমাবর্তনগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, এই সমাবর্তনের মাধ্যমে নিবন্ধিত ৭ হাজার ২১ জন স্নাতকোত্তর, এম.ফিল, পি.এইচ.ডি ও এমবিবিএস ডিগ্রীধারীকে মূলসনদ প্রদান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাল সকাল ১০টায় চ্যান্সেলরের শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা। শোভাযাত্রার শুরু হবে প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে। সিনেট ভবনের সামনে চ্যান্সেলরের প্রতিনিধি শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ শোভাযাত্রায় যোগ দেবেন। চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষক (প্রভাষক) থাকবেন শোভাযাত্রার প্রথমে। অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেকের গায়ে থাকবে ঐতিহ্যবাহী গাউন ও মাথায় হুড। লাল গাউন পরবেন পি.এইচ.ডি ডিগ্রী অর্জনকারীরা। বাকি সকলে পরবেন কালো গাউন। আর হুডগুলো হবে বিভিন্ন রঙের। শোভাযাত্রা বিভিন্ন পথ প্রদক্ষিণ শেষে স্টেডিয়াম মঞ্চে প্রবেশ করবে।
মঞ্চে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। এরপর সভাপতির উদ্বোধনী ঘোষণা, ক্রেস্ট প্রদান, পর্যায়ক্রমে পি.এইচ.ডি, এম.ফিল ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনকারীদের সনদপত্র প্রদান, উপাচার্যের ভাষণ, সমাবর্তন বক্তার ভাষণ, সভাপতির ভাষণ, উপ-উপাচার্যের ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সভাপতির সমাপ্তি ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠান। পরে মঞ্চ থেকে শোভাযাত্রা বেরিয়ে যাবে প্রবেশের বিপরীত পথ দিয়ে। সবশেষে থাকবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
জানা গেছে, ১৯৫৪ সাল থেকে ১৯৯৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকাশিত ফল অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ২ লাখ ৯৮ হাজার ৮২৩ ছাত্র-ছাত্রীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী প্রদান করেছে। এছাড়া ৯৮ জনকে এম.ফিল ও ৭৭ জনকে পি.এইচ.ডি ডিগ্রী প্রদান করেছে।
প্রসঙ্গত, সমাবর্তনের এই রীতি আসলে ইউরোপ থেকে এসেছে। শিক্ষা শেষে সনদপত্র নিতে এলে চ্যান্সেলর উত্তীর্ণ ছাত্রের গাউনে তার সনদখানা ঝুলিয়ে দিয়ে আশীর্বাদ করতেন, যেন সে তার অর্জিত বিদ্যা, সঞ্চিত জ্ঞান দিয়ে দেশ ও জাতির সেবা করতে পারে। কালক্রমে দেশে দেশে এই রীতির প্রচলন ঘটে।
