রাজ্যসভায়ও এফডিআই ইস্যুতে জয় মনমোহন সরকারের

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪২
ভারতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার পর উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়ও খুচরা বাজারে বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) ইস্যুতে ভোটাভুটিতে জয় পেল ক্ষমতাসীন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। গতকাল শুক্রবার রাজ্যসভায় অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে মাত্র ১৪ ভোটের ব্যবধানে এফডিআই অনুমোদন পায়। ভোটাভুটির আগে কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপি সংসদে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এফডিআই অনুমোদন দেয়ার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানেও বিক্ষোভ হয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভির। রাজ্যসভায় এফডিআইয়ের পক্ষে ভোট পড়েছে ১২৩টি এবং বিপক্ষে পড়েছে ১০৯ ভোট। লোকসভার পর রাজ্যসভায়ও সরকারের ‘পাশে’ থেকে ইউপিএকে স্বস্তি দিয়েছে মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) ও মুলায়েম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। ফলে ভারতের খুচরা বাজারে ক্যারেফোর, টেসেকো এবং ওয়ালমার্টের মত বিখ্যাত কোম্পানির অর্থ লগ্নি করার রাস্তা আরো পরিষ্কার হল। ইউপিএ সরকারকে বাহির থেকে সমর্থন দিচ্ছে বিএসপি ও এসপি। গত বুধবার লোকসভায় ভোটাভুটির সময় ওয়াকআউট করেছিল বিএসপি ও এসপি। যার ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য প্রায়োজনীয় সংখ্যা ২৭২ থেকে কমে দাঁড়িয়েছিল ২৪০-এ। এফডিআইয়ের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ২৫৩ জন ও বিপক্ষে দিয়েছিলেন ২১৮ জন। গতকাল ভোটাভুটি শুরুর আগেই রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করেন এসপির ৯ জন সংসদ সদস্য। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ম্যাজিক সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১১৭-এ। ভোটদানে বিরত থাকেন একজন। অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণভাবে নির্দলীয় ৪ জন এমপির ভোট সরকারের পক্ষে এসেছে। খেলায় যোগদানের জন্য অনুপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সদস্য এবং ক্রিকেট মাস্টার শচীন টেন্ডুলকর। এদিকে গতকাল রাজ্যসভায় ভোটাভুটির আগে বাণিজ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্যের জের ধরে রাজ্যসভায় হইচই শুরু হয় এবং এক ঘন্টার জন্য অধিবেশন মূলতবি করা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এফডিআই নিয়ে সরকার কৃষক, ব্যবসায়ী, ভোক্তাসহ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে আলোচনা করেছেন। সরকার আন্তঃমন্ত্রলায় সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে এবং পরামর্শ নিয়েছে। তার এ মন্তব্যের পর বিরোধী দলগুলো মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংসদকে প্রভাবিত করার অভিযোগ আনেন এবং তা প্রত্যাহারের আহবান জানান। ভারতের খুচরা বাজারে বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) বিষয়টি পার্লামেন্টে অনুমোদন লাভ করায় আর্থিক খাতে সংস্কারের জন্য কিছু বিল আনা হবে পার্লামেন্টে। রাজ্যসভায় ভোটাভুটির পর সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কমল নাথ জানান, সরকার এখন আর্থিক খাত সংস্কারের দিকে মনোযোগ দেবে।