মিসরে মুরসি বিরোধী আন্দোলন ক্রমশ বেগবান হচ্ছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায়ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে হাজার হাজার লোক বিক্ষোভ করেছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে। প্রেসিডেন্ট মুরসি ‘বিতর্কিত’ সাংবিধানিক গণভোট প্রশ্নে অনড় থাকায় এবং রাজপথে সহিংসতার নিন্দা করায় তার বিরুৃদ্ধে আন্দোলনকারীরা নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেয়। এ সময় তারা তার পদত্যাগ দাবি করে। একদিন আগে মুরসি পন্থী ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন নিহত ও ৬শ’ জন আহত হলে এরপর থেকেই পরিস্থিতি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মোড় নেয়।
বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন ভাষণে শনিবার বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, ‘বিদ্রোহী যুব সমাজ’ ও অন্যান্য আইনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান মুরসি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ১৫ ডিসেম্বর খসড়া সংবিধানের উপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা তীব্র আন্দোলনের আহবান জানান। বিরোধীদের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট আসন্ন গণভোট অনুষ্ঠানের বিষয়ে এখনও তার পূর্বের অবস্থানে বহাল রয়েছেন, তাই তার দেয়া সংলাপে বসার কোন অর্থই নেই। বিরোধীদের কয়েকজন নেতা বলেন, মুরসি তার ভাষণে একচ্ছত্র ক্ষমতা বাতিলের বিষয়ে কোন বক্তব্যই রাখেননি। উল্টো তিনি গণভোটের পুরনো দিনক্ষণের সাফাই গেয়েছেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের এক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট শর্তসাপেক্ষে হয়তো নির্বাচন স্থগিত করতে পারেন। তবে তিনি এটাও বলেন যে, মিসরের আইনে প্রেসিডেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি উত্থাপনের দুই সপ্তাহের মধ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে হবে। এদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ মেক্কি বলেছেন, মুরসি ১৫ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠিতব্য গণভোট বিলম্ব করে করতে পারেন যদি বিরোধীদের পক্ষ থেকে এই নিশ্চয়তা দেয়া হয় যে, তারা সামনে আর এটি নিয়ে চ্যালেঞ্জ করবে না।
