ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক সশস্ত্র ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণকারী ও অজ্ঞানপার্টির সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। যাত্রীবেশী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীরা চালকের যোগসাজশে, কখনো চালককে জিম্মি করে, কখনোবা অচেতন ও অপহরণ করে গাড়ি ছিনিয়ে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় ছাড়াও যাত্রীর সর্বস্ব লুটে নিয়ে থাকে। এসব কাজে নারীদেরও ব্যবহার করে থাকে অপরাধীচক্র। কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘটেছে এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা। এ মহাসড়কসহ এর সংযোগ সড়কগুলোতে ইদানীং পুলিশ-র্যাব ও ডিবি পুলিশ পরিচয়েও ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণ বৃদ্ধি পেয়েছে । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রবাসীরাই টার্গেট হচ্ছেন ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের। যানবাহন ও যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য হাইওয়ে পুলিশ থাকলেও সংঘবদ্ধ অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের দুর্ধর্ষ কর্মকাণ্ড।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বেলতলী এলাকায় ১০/১২ জনের সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দল গত শুক্রবার ভোর রাতে কাতার থেকে আসা ২ প্রবাসীকে বহন করে নোয়াখালীর মাইজদি শহরে যাওয়ার পথে একটি মাইক্রোবাসে ডাকাতি করে নগদ টাকাসহ মালামাল লুটে নিয়েছে। এছাড়া গত ১ ডিসেম্বর চান্দিনা উপজেলার কইকড়ি গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের পুত্র হারুন মিয়া (৬৫) অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েন। বাসে অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা তাকে অচেতন করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। ওইদিন দুপুরে হারুন মিয়াকে বাস থেকে নামিয়ে চৌদ্দগ্রামের নোয়াবাজার এলাকায় মহাসড়কের পার্শ্বে ফেলে রাখা হয়। পরদিন তার মৃত্যু হয়। গত ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় মহাসড়কের সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকা থেকে হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে একজন নারীসহ যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীরা সিএনজিচালিত বেবীট্যাক্সি ভাড়া করে চালক মাছুম মিয়াকে (২২) নেশাজাতীয় দ্রব্যাদি খাইয়ে অচেতন করে তার বেবীট্যাক্সিটি ছিনতাই করে। পরে ছিনতাইকারীদের দাবিকৃত ৯০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে জেলার চান্দিনা থেকে ওই বেবীট্যাক্সিটি উদ্ধার করা হয়। গত ২৬ নভেম্বর মহাসড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যারিকেড দিয়ে চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর গ্রামের সৈয়দের রহমানের পুত্র আমিনুল ইসলাম নামের এক সৌদি প্রবাসীকে র্যাব পরিচয়ে সিএনজি বেবীটেক্সি থেকে অপহরণ করে নগদ ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা, ১২০ সৌদি রিয়াল, মোবাইল ফোন, হাতঘড়ি, পায়ের জুতা ছিনিয়ে নিয়ে চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় সদর দক্ষিণ উপজেলার ধনাইতরি এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। এর আগে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা একইভাবে চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার, কাশিনগর, সদর দক্ষিণের সুয়াগাজীসহ আশপাশের এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি সিএনজি বেবীট্যাক্সি ছিনতাই করে। এরইমধ্যে চৌদ্দগ্রামের প্রতাপপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের একটি, একই গ্রামের সহিদ মিয়ার একটি, জগমোহনপুর গ্রামের হারুন মিয়ার একটি ও একই গ্রামের সাত্তারের একটিসহ কয়েকটি সিএনজি বেবীট্যাক্সি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মুক্তিপণ পরিশোধ করা হয় বলে জানা গেছে। আবার ভুক্তভোগীদের অনেকে ছিনতাইকারীদের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করেও তাদের গাড়ি উদ্ধার করতে পারেননি।
