বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান রংপুরের পায়রাবন্দ

মেয়েরা আর অবরোধবাসিনী নয়

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:০১
নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি রংপুরের পায়রাবন্দের মেয়েরা আর অবরোধবাসিনী নয়। অশিক্ষা, কুশিক্ষা, বাল্য বিবাহ ও ফতোয়াবাজির হাত থেকে সেখানকার নারীরা এখন নিরাপদে রয়েছে। রোকেয়ার আলোতে আলোকিত হচ্ছে তারা। বাড়ছে নারী শিক্ষা। দশ বছর আগে যেখানে নারী শিক্ষার হার ছিল মাত্র ১০ শতাংশ। বর্তমানে তা ৬৭ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মমুখী ও আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে মেয়েরা। নারীর ক্ষমতায়নেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে তারা। বাড়ছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা। বর্তমানে সেখানকার মেয়েরা নিজেদের অধিকার এবং তাদের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সচেতনাতামূলক কর্মকাণ্ডের ফলে এখানকার মেয়েরা এখন আলোর মুখ দেখছে। তারা অফিস-আদালতে, মাঠে-ঘাটে কাজ করছে। বাড়ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের সংখ্যা। শিক্ষার জন্য বেগম রোকেয়ার বসতভিটার পাশে গড়ে উঠেছে বেগম রোকেয়া স্মৃতি ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল একাডেমী, বেগম রোকেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বই ও সংবাদপত্র পড়ে মেয়েদের অবসর সময় কাটানোর জন্য গড়ে উঠেছে বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদ, পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গণকেন্দ্র পাঠাগার। পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণীর ১ম বর্ষের ছাত্রী ফরিদা পারভীন, শাকিলা আক্তার, রুমানা আক্তার, শামীমা পারভীনসহ বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানায়, পরিবহন সুবিধা না থাকায় আমাদেরকে প্রায় ৭/৮ কিলোমিটার দূর থেকে পায়ে হেঁটে কলেজে আসতে হয়। কলেজে হোস্টেল সুবিধা থাকলে আমরা এখানে থেকে লেখাপড়া করতে পারতাম। এতে করে আমাদের পড়ালেখার মান আরও ভালো হতো। এ ব্যাপারে বেগম রোকেয়া স্মৃতি ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ একরামুল হক জানান, মাত্র ২৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজটির যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৯ সালে কলেজটি ডিগ্রিতে উন্নীত হয়। বর্তমানে এখানে ৬৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পায়রাবন্দের গরীব-মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশুনা করে। তিনি আরও বলেন, কলেজটি সরকারিকরণ হলে অনার্স এবং মাস্টার্স চালু হবে। গরীব ও মেধাবীদের এখানে পড়াশুনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর এলে ৩ দিনব্যাপী বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা হয়। পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রনিজনা সাবের জানান, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সচেতনাতামূলক কর্মকাণ্ডের ফলে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকার এইচএসসি পর্যন্ত নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করার কারণে নারী শিক্ষার হার দিন দিন বাড়ছে। এখানকার বাবা-মা তাদের মেয়েদেরকে শিক্ষার জন্য নিয়মিত স্কুল-কলেজে পাঠাচ্ছেন। পায়রাবন্দের নারীদের আত্মনির্ভরতা ও কর্মমুখী হওয়ার কাহিনী এখানেই শেষ নয়। সামান্য বসতবাড়ির আঙ্গিনায় হাঁস-মুরগী পালন, শাক-সবজি ও মাছ চাষ এবং বাড়ির আবর্জনা ও কচুরীপানার তৈরি কম্পোজড সার বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তারা। কয়েক বছর আগেও তাদের সংসারে দু’বেলা ভাত জুটতো না। এখন তারা মাসে ৪ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চালাচ্ছেন। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। চূহড় গ্রামের আবিদা খাতুন জানান, তার মাত্র ১৪ শতক জমি সম্বল। ৩ বছরের ব্যবধানে তার ভাগ্য পরিবর্তনের চাকা ঘুরতে থাকে।