টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়ক মেরামত হয়নি ৬ মাসেও

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৩
টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের কয়েকশ’ ফুট রাস্তা জলোচ্ছ্বাসের পানিতে ভেঙে যাওয়ার প্রায় ৬ মাস পরেও মেরামতের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ সীমান্তে বসবাসরত শাহপরীর দ্বীপ এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন। জোয়ারের সময় প্রধান সড়কের ওই অংশে বাঁশের সাঁকো ও নৌকায় মানুষের পারাপার দেখলে মনে হয় এখানে কখনো রাস্তা ছিল না। তবে সমুদ্রের ভাটার সময় ক্ষত বিক্ষত রাস্তা ভেসে উঠে। গত জুন মাসে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমাংশে নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এ সময় ওই এলাকার দু’টি মসজিদসহ প্রায় ৩০০ পরিবারের ভিটেমাটি সাগর বক্ষে বিলীন হয়ে যায়। এক পর্যায়ে জলোচ্ছ্বাসের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের উপর। ভেঙে যায় প্রায় ৬০০ ফুট এলাকার পিচঢালা রাস্তা। সেই তখন থেকে প্রতিদিন দু’বার জোয়ার-ভাটার সময় সড়কের ওই অংশসহ আশেপাশের প্রায় ২ হাজার একর লবণ চাষের জমি কয়েক ফুট লোনা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। এতে মানুষের চলাচলে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। স্থানীয়ভাবে নির্মিত হয়েছে বাঁশের সাঁকো। জনপ্রতি ৫ টাকা দিয়ে এ সাঁকো পার হতে হয়। মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধরা জোয়ারের সময় নৌকাযোগে জনপ্রতি ১০ টাকা দিয়ে পার হন। এভাবে কম করে হলেও প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে শাহপরীর দ্বীপবাসীর। তবে ভাটার সময় ভেসে ওঠা ভাঙ্গা রাস্তা হেঁটে পার হলে কাউকে কোন পয়সা দিতে হয় না। এদিকে শাহপরীর দ্বীপ বাজারে প্রতিবস্তা চাল টেকনাফ বাজারের চাইতে কমপক্ষে ১০০ টাকা বেশি। তরিতরকারী কেজি প্রতি ১০/১৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শুধুমাত্র পরিবহন সমস্যার কারণে। এ ব্যাপারে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইতিমধ্যে ২২ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত এই অংশটুকু মেরামতের জন্য টেন্ডার করা আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমাংশের বেড়িবাঁধ মেরামত করার পরই রাস্তার কাজ শুরু করবে।