কুমিল্লায় পানিতে চুবিয়ে, শেকলে বেঁধে চলে পাগল চিকিত্সা

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৫
দুর্গাপুরের পাগল চিকিত্সালয় সম্পর্কে অভিযোগে প্রকাশ, মানসিক রোগী চিকিত্সার নামে এখানে চলে অপচিকিত্সা। একজন রোগীকে দেখা গেল শেকলে পা বাঁধা। খোলা জানালার সামনে পথচারী কাউকে দেখলে লোহার শেকল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা ও হাউ-মাউ করে চিত্কার করে। প্রকাশ, মাসের পর মাস ছোট ছোট কক্ষে আটক রয়েছে আরও অনেক মানসিক রোগী। কুমিল্লা মহানগরীর অদূরে আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর দীঘিরপাড় এলাকায় পাগল চিকিত্সালয়টি। পাগলখানার কথিত চিকিত্সক হাকীম ফরিদ আহমেদের ব্যক্তিগত পরিচালনায় এখানে মানসিক রোগীদের চিকিত্সা দেয়া হয়। সুস্থ করার নামে এখানে চলে অমানবিক নির্যাতন। যেন টর্চার সেল- বলেছেন স্থানীয় লোকজন। স্থানীয় লোকজন জানায়, ফরিদ আহমেদের ওই ‘পাগল চিকিত্সালয়’ একসময় ছিল মাটির ঘরে। আয়-রোজগার ভাল হওয়ায় বর্তমানে এটি টিন শেডের পাকা দালান। ছোট ছোট ৫টি কক্ষের ৪টিতে ৮ মানসিক রোগীর অবস্থান। এরমধ্যে ১ জন তরুণীও রয়েছে। ৭ জন পুরুষ রোগীর ৪ জনকে লোহার শেকলে বেঁধে ও বেড়ি পরিয়ে রাখা হয়েছে। রোগীরা নিজেদের সুস্থ দাবি করে ৪ দেয়ালের বন্দিদশা ও নির্যাতন থেকে মুক্তি চায়। দীর্ঘ একযুগ ধরে শেকলে বেঁধে, পিটিয়ে, পুকুরের পানিতে চুবিয়ে ‘চিকিত্সা’ দিচ্ছেন পাগলখানার মালিক ও কথিত চিকিত্সক হাকীম ফরিদ আহমেদ। জানা যায়, ওয়ান-ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্গাপুরের মাটির ঘরের ‘পাগল চিকিত্সালয়টি’ গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। পরে প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে টিন শেডের পাকা দালান নির্মাণ করে তা পুনরায় চালু করেন ফরিদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, সম্পত্তি বা পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরেও এখানে মানসিক রোগী সাজিয়ে মাসের পর মাস সুস্থতার নামে আটকে রাখা হয়। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘আমার পিতা চিকিত্সক ছিলেন। এ চিকিত্সার জন্য আমার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। আমি আমার পিতা ফজলুর রহমানের কাছ থেকে সব শিখেছি। এখানে ইউনানী পদ্ধতিতে রোগীর চিকিত্সা করা হয়। তার চিকিত্সায় বহু রোগী সুস্থ হয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, এ চিকিত্সালয় চালানোর জন্য স্বাস্থ্যবিভাগ বা সমাজ কল্যাণ অফিসের কোন অনুমতি নেই। তবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ব্যবসায়িক লাইসেন্স নেয়া হয়েছে। যেসব রোগী বেশি পাগলামী করে তাদের পায়ে শেকল বেঁধে দেয়া হয় এবং তাদের সুস্থতার জন্য বেশি সময় নেয়া হয়। বর্তমানে রোগী কম, মাঝেমধ্যে ২০/২৫ জনও হয়ে থাকে। তিনি রোগীদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।