রাবিতে উত্সবমুখর সমাবর্তন

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৪
উত্সবমুখর পরিবেশে গতকাল রবিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনভর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণোচ্ছল ছিল মতিহার ক্যাম্পাস। সমাবর্তনে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থীকে সনদপত্র প্রদান করেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. জিল্লুর রহমান এর মনোনীত প্রতিনিধি হিসাবে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন দেশের প্রবীণ শিক্ষাবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড.আনিসুজ্জামান। সকাল এগারটায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে জাতীয় সঙ্গীত ও বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সমাবর্তন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে ও স্বাধীনতা পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য খান সরওয়ার মুরশিদ এর মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সমাবর্তন বক্তা ড. আনিসুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, উচ্চশিক্ষার পীঠস্থানে কেবল বিদ্যাদানই চলে না, জ্ঞান সৃষ্টি করাও অপরিহার্য। দেশে ছেলেমেয়েরা বাঙলা, ইংরেজী শিখতে হিমশিম খেয়ে যায়। অথচ ফ্রান্সে বা রাশিয়ায় গিয়ে এক বছরে সে দেশের ভাষা আয়ত্ত করে পিএইচডি থিসিস পর্যন্ত লিখে ফেলে। তিনি পরীক্ষা পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের বোঝার পরীক্ষা আমরা নিই না। আমরা নিই তাদের মুখস্থ করার ক্ষমতার পরীক্ষা। সুতরাং মুখস্থই ভরসা। প্রবীণ এই অধ্যাপক আরো বলেন, উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের হানানানি ভয়াবহ ব্যাপার। এটি রাজনীতি নয়, বরং অপরাধমূলক কাজ। বর্তমান ছাত্র রাজনীতিকে ধিক্কার দিয়ে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি মানে দলের লেজুড়বৃত্তি করা না, রাজনৈতিক দলকে ঠিকপথে চলতে প্রভাবিত করা। তাছাড়া শিক্ষকরা যেভাবে দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে লিপ্ত তা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। এতে করে আমাদের অতি সাধের স্বায়ত্তশাসন নিতান্তই অর্থহীন হয়ে পড়বে। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান গ্রাজুয়েটদের শিক্ষিত, জ্ঞানী, প্রযুক্তিতে দক্ষ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন প্রজন্ম হিসাবে দেশের ভবিষ্যত্ নির্মাণে প্রধান শক্তি হিসাবে ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চালাতে দেশের জনসাধারণের কাছ থেকে শতকরা পঁচানব্বই ভাগ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তাদের আশার প্রতিফলন হিসাবে উচ্চ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, জ্ঞান, প্রযুক্তি, নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে গড়ে উঠতে হবে। মন্ত্রী গ্রাজুয়েটদের অর্জিত শিক্ষা ও জ্ঞান বাস্তব কর্মজীবনে প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে উদার, উন্মুক্ত ও সুপ্রসারিত। বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত ও তথ্য বিপ্লবের সুযোগ গ্রহণ করে নিজেকে যুগোপযোগী মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার এম এ বারী’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্য এম নূরূল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ এম আব্দুর রহমান, রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ নয়টি অনুষদের ছয়জন ডিন ও কর্মকর্তারা। এর আগে সকাল সাড়ে দশটায় সিনেট ভবনের পাদদেশ থেকে সবার অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সমার্বতনে ১৯৯১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধিত সাত হাজার ১৮ জনের মধ্যে ৪ জনকে এমফিল, ১৯ জনকে পিএইচডি ডিগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়া কলা অনুষদের ১৬৬১ জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ১৪৮৬ জন, কৃষি অনুষদের ২ জন, আইন অনুষদের ৩৪৬ জন, বিজ্ঞান অনুষদের ৮১৬ জন, চিকিত্সা অনুষদের ১৬ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৬৫০ জন, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ৭১৪ জন ও প্রকৌশল অনুষদের ২৬৯ জন গ্রাজুয়েটকে সনদ প্রদান করা হয়। এ সময় এম ফিল গবেষকদের পক্ষে একজন, অনুষদগুলোর পক্ষ থেকে একজন করে গ্রাজুয়েট শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে সনদপত্র গ্রহণ করেন। বিকালে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।