দক্ষিণ এশিয়ার নারী উদ্যোক্তাদের দুইদিনব্যাপী সিম্পোজিয়াম গতকাল রবিবার ঢাকায় শুরু হয়েছে। সকালে সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধনী পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও ব্লেক বলেন, নারীরা তাদের আয়ের ৮০ শতাংশই পরিবার ও সমাজের জন্য ব্যয় করেন। তারা নেতৃত্বে থাকলে অপেক্ষাকৃত কম দুর্নীতি হয় এবং বেশি জনসেবা দেয়া যায়। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় অগ্রগতি সাধন করেছে।
এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা এ দেশে বেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি এই ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। সিম্পোজিয়ামের প্রধান অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির স্বীকৃতি এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর জন্যও অনুকরণীয়। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার এক বিলিয়ন নারী সমাজ পরিবর্তনের জন্য অবদান রেখে চলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এই আঞ্চলিক সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করেছে। এর আগে এ ধরনের সিম্পোজিয়াম ২০১১ সালের জুলাই মাসে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত হয়। সিম্পোজিয়ামে আফগানিস্তান, কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, বার্মা, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলংকাসহ দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ১২০ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। উদ্বোধনী পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নারী বিষয়ক অ্যাম্বাসাডর অ্যাট লার্জ মেলান ভারভিয়া বক্তব্য রাখেন। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ভিডিও বক্তব্য দেখানো হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিনিয়র ডিরেক্টর ইলিন ও কনার অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ভিডিও বক্তব্যে বলেন, নারীর মর্যাদা বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করার জন্য এই আঞ্চলিক সিম্পোজিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যকার ভেদাভেদ কমিয়ে আনতে এটি অত্যন্ত কার্যকর বলে আমি মনে করি। আজ এটা স্পষ্ট যে, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই পিছিয়ে থাকলে কোন দেশই উন্নতি করতে পারে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, নারীদের অর্থনীতিসহ সবক্ষেত্রে মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বাস্তবে রূপ দিতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ে নারীসমাজ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সবক্ষেত্রে নারীকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন।
রবার্ট ও ব্লেক বলেন, অগ্রগতি সত্ত্বেও নারী সমাজের জন্য এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। সেগুলো হচ্ছে অশিক্ষা, ঋণ ও শিক্ষায় কম সুযোগ, লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা ও বৈষম্য, আর্থিক ও রাজনৈতিক সুযোগের সীমাবদ্ধতা। বাংলাদেশ ও ভারতে এসব বাধা সত্ত্বেও বেশ অগ্রগতি হয়েছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সমানাধিকারের পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্যে নারীকে সুযোগ দেয়া জরুরি।
সিম্পোজিয়ামে নারীদের মালিকানাধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক উদ্যোগ যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় সেগুলোর উপর আলোচনা করা হচ্ছে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার নারী উদ্যোক্তা ও নেতৃবৃন্দের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন। বিভিন্ন অধিবেশনে উদ্যোগ ও বাণিজ্যের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন সুশাসন, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর ভূমিকা প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হয়।
