ঘন কুয়াশায় মাওয়া ও দৌলতদিয়া ফেরি সার্ভিস ব্যাহত

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৫
শনিবার প্রায় সারাদেশে স্থলভাগের সাথে সাথে নদীপথেও তীব্র ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়। পদ্মা-যমুনার বিশাল বিস্তৃত নদীপথে এই রাতে অচলদশা সৃষ্টি করে তীব্র কুয়াশার ঘন আচ্ছাদন। মধ্য রাত থেকে পরদিন রবিবার সকাল পর্যন্ত সুতীব্র কুয়াশার কবলে পড়ে মাওয়া-কাওড়াকান্দি এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে নৌযান চলাচল একদম বন্ধ হয়ে যায়। ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে ফেরি চলাচল। এ সময় অন্তত নয়টি বড় ফেরি বহু যানবাহন ও কয়েক হাজার যাত্রী নিয়ে মাঝ নদীতে আটকা পড়ে। এছাড়া মাওয়া ফেরিঘাটে একটি এবং কাওড়াকান্দি ঘাটে দুইটি ফেরি যানবাহন ও যাত্রী বোঝাই করার পর তীব্র কুয়াশাচ্ছন্ন নদীপথের কারণে ঘাটেই বসে থাকে সারারাত। রবিবার সকাল ১০টার পর এসব ফেরি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ঘাট ছেড়ে যায়। মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশার কারণে মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে সাড়ে ৯ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ ছিল। শনিবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় উভয়পাড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। কনকনে শীতের মধ্যে মাঝ পদ্মায় আটকা পড়ে রো রো ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন’ ও ‘শাহ মখদুম’, ‘ফরিদপুর’, ‘যমুনা’, রানীক্ষেত, ‘রামশ্রী’, ‘টাপলু’, ‘থোবাল’ ও ‘লেন্টিন’। ফেরি ফরিদপুরে কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া আসার পথে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান মাঝ পদ্মায় আটকা পড়েন। ফেরিগুলোতে আটকাপড়া তিন হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়ে। মাওয়ায় একটি ও কাওড়াকান্দিতে ২টি ফেরি যানবাহন ভর্তি করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর গন্তব্যে রওনা দেয়। বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার সিরাজুল হক রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জানান, কুয়াশার চাদর এতটাই ঘন যে খুব কাছেও কিছু দেখা যাচ্ছিল না। দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিগুলো মাঝ নদীতে নোঙ্গর করতে বাধ্য হয়। সাড়ে ৯ ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় উভয়পাড়ে আটকা পড়ে নাইটকোচসহ শত শত যান। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী রাজধানী ঢাকা ফেরার পথে মাঝ পদ্মায় আটকা পড়েন। গোয়ালন্দ সংবাদদাতা জানান, মৌসুমের প্রথম ঘন কুয়াশার কারণে শনিবার মধ্য রাত থেকে পরদিন রবিবার সকাল দশটা পর্যন্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এসময় দৌলতিদয়া প্রান্তে তিনটি, পাটুরিয়ায় দুটি এবং মাঝ নদীতে ৬টি ফেরি নোঙ্গর করে থাকতে বাধ্য হয়। বিআইডব্লিউটিসি ও ঘাট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিনগত রাত দুইটা থেকে নদীপথে ঘন কুয়াশা পড়তে থাকলে সামনের কিছুই দেখতে না পেয়ে আড়াইটার পর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে দৌলতদিয়া থেকে ফেরি শাহ পরান, শাহ আলী, আমানত শাহ ও কপোতি নামক চারটি ফেরি পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং পাটুরিয়া থেকে ফেরি কেরামত আলী ও মতিউর রহমানও ছেড়ে আসার পর মাঝ নদীতে কুয়াশার কবলে পড়ে আটকে থাকে। মাঝ নদীতে ফেরি আটকে যাবার সংবাদ পেয়ে দৌলতদিয়ায় শাহজালাল, কাবেরী ও ভাষা শহীদ বরকত এবং পাটুরিয়া ঘাটে এনায়েতপুরী ও কুমারী ফেরি যানবাহন বোঝাই করে নোঙ্গর করে থাকে। মাঝ নদীতে আটকে পড়া ছয় ফেরির শতাধিক যানবাহনের কয়েক হাজার যাত্রী সারারাত আটক থাকে। ঘাটে দেখা যায়, ফেরিগুলো যানবাহন বোঝাই করে ঘাটেই নোঙ্গর করে আছে। এছাড়া ফেরিঘাট থেকে তেলের পাম্প পর্যন্ত প্রায় দুই’শ গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। এরমধ্যে অর্ধশত দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা দূরপাল্লার যাত্রী বোঝাই বাস। খুলনা থেকে শনিবার রাতে আসা মো. আলম খান জানান, রবিবার অবরোধ থাকায় ব্যবসায়িক কাজে শনিবার রাতেই ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন। কিন্তু রাতে ঘন কুয়াশার কারণে গাড়িগুলো ঘাটে আটকা পড়ে। রবিবার সকাল দশটা বাজলেও তার গাড়ি ফেরিতে উঠতে পারেনি। যশোর থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন বাস চালক রাজিবউদ্দিন মন্ডল। তিনি জানান, প্রায় ৪০জন যাত্রী নিয়ে তার বাস রাত তিনটার দিকে দৌলতদিয়ায় এসে কুয়াশায় আটকা পড়ে। ফেরির কিছু জরুরি যন্ত্রাংশ না থাকায় কুয়াশার মাঝে তারা ফেরি চালাতে পারেন না বলে অভিযোগ করেন। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ম্যানেজার তানভির আহাম্মেদ বলেন, কুয়াশার কারণে রাত তিনটা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বন্ধ থাকায় উভয় ঘাটেই তিন শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। এসময় মাঝ নদীতে ৬টি ফেরি আটকে পড়ায় যাত্রী ও যানবাহন চালক দুর্ভোগের শিকার হন। শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, ঘন কুয়াশায় শনিবার রাত ১২টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ১০ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার সকাল ১০টায় ফেরিসহ নৌযান চলাচল শুরু হয়। বিআইডব্লিউটিসির কাওড়াকান্দি ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক আব্দুল বাতেন বলেন, রাত ১২টা থেকে নদীতে তীব্র কুয়াশা পড়ায় ফরিদপুরসহ সকল ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। রবিবার সকাল ১০টায় কুয়াশা কেটে গেলে ফেরি চলাচল শুরু হয়।