মালিকের অবহেলাতেই এত শ্রমিকের মৃত্যু

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৬
তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১১ জনের প্রাণহানির জন্য মালিক দেলোয়ার হোসেনের অবহেলাকে দায়ী করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। এ জন্য কমিটি তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় (অবহেলার জন্য মৃত্যু) মামলার সুপারিশ করেছে। কমিটির প্রধান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মঈন উদ্দীন খন্দকার গতকাল রবিবার ইত্তেফাককে এ তথ্য জানান। কমিটি এই ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত নাশকতা বলেও মন্তব্য করে এ ধরনের ঘটনার পেছনের সত্য বের করতে অধিক সময় দিয়ে তদন্ত কার্য পরিচালনার সুপারিশ করেছে। গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। মঈন উদ্দীন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি আব্দুস সালাম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক আব্দুস সালাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জালাল হায়দার উপস্থিত ছিলেন। কমিটি প্রধান জানান, স্বরাষ্ট্র, শ্রম ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এ কমিটি সকল তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ছাড়পত্র আছে কি-না, বহির্গমন ও নির্গমন পথ ছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়ার পথসমূহ চিহ্নিত করবে। এক প্রশ্নের জবাবে মঈন উদ্দীন খন্দকার বলেন, তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর কারণ মালিকের অমার্জনীয় অবহেলা। কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করবে। মামলা হলে নিশ্চয় তাকে গ্রেফতার করা বা অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, নাশকতার বিষয়টি স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয়েছে। এ জন্য বেশ কয়েকজনকে কমিটি চিহ্নিত করেছে। গত ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনস কারখানায় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। বেরুনোর সকল পথ তাত্ক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেয়ায় আগুনে পুড়ে মারা যান (সরকারি হিসাবে) ১১১ জন শ্রমিক। আর আহত হন কম-বেশি শতাধিক। এ ঘটনার তদন্ত করে সুপারিশ প্রণয়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মঈন উদ্দীন খন্দকারের নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিভিন্ন জনের সাক্ষাত্কার নিয়েছে। পারিপার্শ্বিকতা, ঘটনার সময় গেট বন্ধ করে দেয়া, মালিকের উদাসীনতার নানা দৃষ্টান্ত, শ্রমিক পক্ষের বক্তব্য ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। দুই-একদিনের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত নয় মাসে দেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ১৪ হাজার ৯৪২টি। কিন্তু কোনো ঘটনারই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বা প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যখনই কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তখন কিছুদিন তা নিয়ে হৈচৈ চলে পরে সব যেন স্বাভাবিক হয়ে আসে। এ বাস্তবতায় এবার কী হবে- সে সম্পর্কে ওই কমিটির প্রধান বলেন, দায়ী ব্যক্তিদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।