বিএনপির অবরোধ কর্মসূচিতে বাধা দিতে বা কর্মসূচির বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থান নিতে আওয়ামী লীগের পূর্বঘোষিত কোনো কর্মসূচি না থাকলেও রবিবার অবরোধ শুরু হওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সরব ছিলেন। তারা মিছিল ও শোভাযাত্রা নিয়ে মাঠে নামেন। মিরপুর, গাবতলী, বাহাদুরশাহ পার্ক, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই দলের কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াও হয়েছে। সকাল থেকেই এ সব এলাকায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা মিছিল নিয়ে সতর্ক ও সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে সরব হয়ে ওঠে। সকাল ৯টার পর থেকে অবরোধ বিরোধী খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। অনেকে আবার মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহ অবরোধ বিরোধী মিছিল করতে করতে সেখানে জড়ো হন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুরো বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বাইরে ও সামনের রাস্তা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। কয়েকজনকে হাতে গজারির লাঠি, ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প, ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে রাস্তায় অবস্থান করতে দেখা যায়। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ আজিজ, যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. কাওছার, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথসহ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রলীগের একটি মিছিল বের হয়ে শাহবাগ, প্রেসক্লাব, পল্টন মোড় হয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের আগে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে নেতা-কর্মীরা মহড়া দেন। এদিকে রাজধানীর কাঁটাবান ও শাহবাগ এলাকায় লাঠি মিছিল করে যুবলীগ কর্মীরা। এ সময় পুলিশ তাদের বিরোধী জোটের কর্মী মনে করে মিছিলে বা?ধা দিতে যায়। পরে যুবলীগের পরিচয় পাওয়ার পর পুলিশ মিছিলে আর বাধা দেয়নি। রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজের সামনে অবরোধের সমর্থনে বিএনপি ও বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ মিছিল করে। এ সময় সংঘর্ষ শুরু হলে পথচারীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। জুরাইন, দয়াগঞ্জ, গুলিস্থান, বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও এর আশপাশের এলাকা, পুরানা পল্টন, প্রেসক্লাবের সামনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল করে। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, অবরোধে আগে থেকেই দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিলো।
পাকিস্তানি ‘এজেন্টদের’ ধ্বংসযজ্ঞ : আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, জনগণ ঘৃণাভরে অবরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপি পাকিস্তানের ‘এজেন্ট’ হওয়ায় তারা বিজয়ের মাসে অবরোধের নামে সারাদেশে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গতকাল রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির কর্মসূচির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবস্থানের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ কোন পাল্টা কর্মসূচিতে বিশ্বাস করে না। তাদের কর্মসূচির জবাবে পাল্টা কোন কর্মসূচি আমাদের নেই। তবে সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন দেশের জনগণ রাস্তায় নেমে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ‘বিএনপির অবরোধ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল বাধা দিচ্ছে’ মর্মে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে হানিফ বলেন, তাদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিএনপির জন্মই হয়েছে মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করার জন্য। তিনি বিএনপিকে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ ত্যাগ করে একাত্তরের ঘাতকদের বিচারে সরকারকে সহযোগিতা করার আহবান জানান।
