বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যেমন বর্তমানে অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছে তেমনি এর কারণে রাষ্ট্রীয়, ব্যক্তিগত বা ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপন বিষয়ও আর গোপন রাখা যাচ্ছে না। এর একটা বড় উদাহরণ হল যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বেলজিয়াম প্রবাসী এক ব্যক্তির স্কাইপির সংলাপের তথ্য ফাঁস। বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ সাময়িকী ইকনমিস্ট এবং বাংলাদেশের একটি দৈনিকে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বেলজিয়াম প্রবাসী আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে গত আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার ও রায় নিয়ে মোট ১৭ ঘণ্টা কথা বলেন। একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান আহমেদ জিয়াউদ্দিনকে বলেন ‘গভর্নমেন্ট রায়ের জন্য পাগল হইয়া গেছে। সাঈদীরটা হলে ডিসেম্বরের মধ্যে রায় দেতে পারবো। গভর্নমেন্ট গেছে পাগল হইয়া। তারা একটা রায় চায়।’ কথোপকথনে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘শোনেন, আমি একটা জিনিস মনে করি। যেডা আমার ব্যক্তিগত মতামত যে, সম্ভব হইলে গোলাম আযম ফার্স্ট, সাঈদী সেকেন্ড, কাদের মোল্লা থার্ড। আর যদি তা প্রবলেম হয়, তাইলে সাঈদী ফার্স্ট, গোলাম আযম সেকেন্ড, কাদের মোল্লা থার্ডই থাক। কেননা সাঈদীর কেসটা ডিফারেন্ট। এই সাঈদীর কেসটার লগে আইনের সম্পর্ক খুব বেশি না। এডা আমাদের দেশি দরবারের মতোই। গোলাম আযম হইলো সেটেলমেন্ট অব ল’ হয়ে যাবে এবং...
আহমদ জিয়াউদ্দিন : রাইট।
নিজামুল হক নাসিম : এই গোলাম আযম হইলো টিম লিডার। সাঈদী সাইড ট্র্যাক। সাঈদীর লগে আপনার লিডার-টিডারশিপের কোনো প্রশ্ন আসতেছে না। গোলম আযমের রায়ের পরে আপনার নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান-সবগুলা রায় হইতে পারে, এর পরে। কিন্তু গোলাম আযম ফার্স্বে। ওই গ্রুপের থেকে একমাত্র সাঈদী, সাকা এরা বায়রায় (বাইরে)। সাকারে তো আমি থামাইয়াই দিছি। সাঈদীরে থামাচ্ছি না। কারণ, সাঈদী প্রায় শেষ। এইটা যদি উনাদেরকে বইল্লা... এইডা ওনাদেরকে (ট্রাইব্যুনাল-২) হায়ার লেভেল থেইকা বইল্লা, থামায়া দিতে হবে যে, আপনি কাদের মোল্লারে ঢিল দেন। ঢিল দিয়া বাকিগুলারে সামনে আগান। কেননা, ওই যে অ্যাবসেন্ট যে আছে, ওর নাম জানি কী...? ও বাচ্চু, হ্যারে দিয়া শুরু করেন। আরেকজনরে নিয়া আগান সামনে। এরপর আপনার, পর পর ৩-৪টা রায় দিয়া দেন, অসুবিধা নাই কোনো। বাট আফটার গোলাম আযম। নট বিফোর দ্যাট।’
এদিকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে স্কাইপির মাধ্যমে কথোপকথনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ সংক্রান্ত এক আদেশে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেছেন, এ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এবং অন্য দুই সদস্য বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। এ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার পর যখন চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিয়োগ দেয়া হয় তখন উন্মুক্ত আদালতে এটা বলা হয়েছে যে, ট্রাইব্যুনাল আইনটি তাদের জন্য নতুন। এটা বোঝার জন্য অন্য ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ও আইন পর্যবেক্ষণ এবং উভয়পক্ষের আইনজীবীদের এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের অগ্রগতি সম্পর্কে মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের বিশেষজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তার সহযোগিতা নিয়েছেন। বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান তার সঙ্গে কথা বলেছেন। এ উদ্দেশ্যে তারা স্কাইপির মাধ্যমে আলোচনা করেছেন।
