ব্যবসায় পরিচিতি

২০১৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২৪
গতকালের পর অনুশীলনী - ০৪ নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও। গাজীপুরের আজম সাহেব একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ১০০০ জন মেহমানকে আপ্যায়নের জন্যে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি চৌরাস্তার জনবহুল এলাকায় অবস্থিত ’হাওলাদার স্টোরের’ মালিক জনাব রহিমকে সরবরাহ করতে বলেন। কিন্তু এলাকায় বেশ সুনাম থাকা সত্ত্বেও তিনি উক্ত মাল সরবরাহ করতে অপারাগতা প্রকাশ করেন। নির্দিষ্ট দিনে আরও ’১০ কেজি চাল ও ৫ কেজি তেল’ প্রয়োজন হওয়ায় তাত্ক্ষণিকভাবে ’হাওলাদার স্টোর’ তা সরবরাহ করে। জ্ঞানমূলক ক. বিশেষ প্রকৃতি পাইকার কত প্রকার? অনুধাবনমূলক খ. পাইকার কীভাবে পণ্যের সময়গত উপযোগ সৃষ্টি করে তা - ব্যাখ্যা করো। প্রয়োগমূলক গ. হাওলাদার স্টোরের মালিক জনাব রহিম কোন ধরনের ব্যবসায়ী তা বর্ণনা করো। উচ্চতর দক্ষতামূলক ঘ. হাওলাদার স্টোরের সফলতা অর্জনের পেছনে কোন বিষয়টি প্রধান ভূমিকা রেখেছে তা মূল্যায়ন করো। প্রশ্ন ক-এর উত্তর বিশেষ প্রকৃতির পাইকার দুই প্রকার। প্রশ্ন খ-এর উত্তর পাইকার গুদামজাতকরণের মাধ্যমে পণ্যের সময়গত উপযোগ সৃষ্টি করে। যে সকল পণ্য বছরের নির্দিষ্ট সময়ে উত্পাদিত হয় অথচ সারা বছরই চাহিদা লেগে থাকে। বছরব্যাপী চাহিদা মেটানোর জন্যে সে সকল পণ্য গৃদামে সংরক্ষণ করে তাদের সময়গত উপযোগ সৃষ্টি করা যায়। পাইকার সংগৃহীত পণ্য বাজারজাত না করা পর্যন্ত নিজস্ব গুদামে অথবা ভাড়া করা গুদামে সংরক্ষণ করে পণ্যের সময়গত উপযোগ সৃষ্টি করে। প্রশ্ন গ-এর উত্তর হাওলাদার স্টোরের মালিক জনাব রহিম একজন খুচরা ব্যবসায়ী। দিনি পাইকার বা উত্পাদকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বিক্রয় করে তাকে খুচরা ব্যবসায়ী বলে। উপরিউক্ত উদ্দীপকে দেখা যায়, ১০০০ জন মেহমানের আপ্যায়নের জন্যে বেশি পরিমাণে পণ্য সরবরাহ করতে জনাব রহিম অপারগতা প্রকাশ করেন কিন্তু অল্প পরিমাণ যেমন: ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি তেল সরবরাহ করেছিল। যেহেতু চড়ান্ত ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী অল্প পরিমাণে পণ্য বিক্রয় করে থাকে, সেহেতু জনাব রহিম একজন খুচরা ব্যবসায়ী। প্রশ্ন ঘ-এর উত্তর হাওলাদার স্টোরের সফলতা অর্জনের পেছনে ‘স্থান নির্বাচনের’ বিষয়টি প্রধান ভূমিকা রেখেছে। খুচরা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে স্থান নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো স্থানে দোকান স্থাপন করতে হলে সে স্থানের জনসংখ্যা, ভোক্তাদের রুচি, যাতায়াত সুবিধা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করতে হয়। উপরিউক্ত উদ্দীপকে দেখা যায়, হাওলাদার স্টোরটি গাজীপুরের চৌরাস্তায় জনবহুল এলাকায় অবস্থিত। আমরা জানি, যেখানে লোক সমাগম বেশি হয় সেখানে খুচরা ব্যবসায়ী তার পণ্য ভোক্তাদের নিকট বেশি বিক্রয় করতে পারে। গাজীপুর চৌরাস্তায় চারদিক থেকে অনেক যানবাহন এসে থামে। ফলে এখানে অনেক লোকের সমাগম হয়। তাই জনাব রহিম উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করায় তার ব্যবসায়ে সফলতা অর্জন করেছেন। বাংলা প্রথমপত্র মো. আতাউর রহমান (সায়েম) সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা), সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল, ঢাকা সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উদ্দীপকটি পড় এবং এর আলোকে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: দীর্ঘকাল প্রবাসজীবন কাটালেও গৃহকাতর ইরফান মা-মাটির টানে আবার দেশে ফিরে এল। মাটির সোঁদাগন্ধ তাঁকে মুগ্ধ-মাতাল করে। একদিন প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে বৈকালিক ভ্রমণে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বুড়িগঙ্গা পাড়ে হাটতে গেল। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা আর বিষাক্ত কালচে পানির পুঁতি গন্ধে তাঁর বমি হবার উপক্রম। সে দেখে-ভূমিদস্যুরা নদীর দুপাড়ের অধিকাংশ জায়গা দখল করেছে, হাসপাতাল-ট্যানারী ও কল-কারখানা বর্জ্য সরাসরি নদীতে এসে পড়েছে, ড্রেজার দিয়ে বালি কেটে নদী ভরাট করা হচ্ছে, আরও সে কী বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। অথচ এই বুড়িগঙ্গাই ঢাকার প্রাণ, ঢাকার ঐতিহ্য। ইরফান শপথ নেয়- সে যেভাবেই হোক বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাবেই। ক. ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’ সংগ্রহ করেন কে? খ. ‘পল্লীর প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে।’ কথাটির অর্থ প্রাবন্ধিক কী বুঝিয়েছেন? গ. উদ্দীপকের মূল বক্তব্যের সাথে ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধের কোন দিকিটর মিল রয়েছে এবং তা কীভাবে? ঘ. ‘ইরফানের শপথের মধ্যে দিয়েই ঢাকার প্রাণ রক্ষা পাবে।’-তুমি মনে কর কী? ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে তোমার যুক্তি দেখাও। ১০(ক) নং প্রশ্নের উত্তর : ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’ সংগ্রহ করেন চন্দ্র কুমার দে। ১০ (খ) নং প্রশ্নের উত্তর : আমাদের পল্লীর মানুষের প্রাত্যহিক জীবন প্রবাহ এবং প্রকৃতি ও পরিবেশের মাঝেই সাহিত্যের বসবাস। নদ-নদীর কলতান, পাতার মর্মর ধ্বনি, শ্যামল শস্যের বিপুল সমারোহ, সুনীল আকাশ-এসব উপকরণ থেকে সৃষ্টি হয়েছে পল্লীসাহিত্য। আসলে পল্লীর ঘরে ঘরে তাদের জীবন যাপন প্রণালীর সাথেই সাহিত্য মিশে আছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এ অসাধারণ উক্তিটির মধ্যে এ শস্য শ্যামল সুন্দর বাংলাদেশের পল্লীর ভেতরের চিত্র লুকিয়ে আছে। গভীর অন্তর্মুখী দৃষ্টি নিয়ে প্রাবন্ধিক পল্লীর সব দিক দেখেছেন বিধায় তিনি এর মাঝে খুঁজে পেয়েছেন সাহিত্যের বিশাল সম্ভার। ১০(গ) নং প্রশ্নের উত্তর : উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধের মূলকথা শহুরে সাহিত্যের প্রভাবে বাংলা সাহিত্যের স্তম্ভ পল্লীসাহিত্য যে মাটি চাপা পড়ে গিয়েছে - সেই দিকটির মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ঢাকার ঐতিহ্য, ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গা যথাযথ সংস্কারের অভাবে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এরকম একই অবস্থা হয়েছে বাংলার পুরনো দিনের ঐতিহ্য পল্লীসাহিত্যের। বাংলার পুরোনো দিনের ঐতিহ্য পল্লীসাহিত্যের। আধুনিক শিক্ষার সর্বনাশা স্রোতে মানুষ আজকাল এই সাহিত্যধারার কথা প্রায় ভুলেই গেছে। পরিশেষে বলা যায় যে, বুড়িগঙ্গা একটি ঐতিহ্যবাহী নদী, সেই পবিত্র গঙ্গারই শাখা নদী, যা প্রবাহমান ঢাকার ধারে। কিন্তু অনেকেই চায় এই নদীকে অপব্যবহার করতে, এর দ্বারা অন্য সুফল ভোগ করতে। অথচ এর পুরনো ঐতিহ্যের প্রতি তেমন কারও নজর নেই। সেরকমই পল্লীসাহিত্যেও এখন ধীরে ধীরে কঙ্কালসারে পরিণত হয়েছে। একে উদ্ধার করার যেন কেউ নেই। বুড়িগঙ্গার মতোই এ পল্লিসাহিত্য সভ্যতার অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ১০(ঘ) নং প্রশ্নের উত্তর: ‘ইরফানের শপথের মধ্য দিয়েই ঢাকার প্রাণ রক্ষা পারে।’ - এ উক্তির সম্পূর্ণ সমর্থন আমি করি না। বুড়িগঙ্গা বা পল্লীসাহিত্য রক্ষার জন্য শুধু এক জনের পরিকল্পনায় বদ্ধমূল হলেই চলবে না। এর জন্য প্রয়োজন দেশের সকল মানুষের সচেতনতা, আপামর জনগণের সহযোগিতা, সরকারের ইতিবাচক পৃষ্ঠপোষকতা, দেশীয় ঐতিহ্যের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা ইত্যাদি। এভাবেই ঐ নির্জীব হূদয়ে প্রাণের সঞ্চার করা সম্ভব। ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫-১৯৬৯) রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের জন্য দেশের জনগণকে উত্সাহিত করেছেন। তিনি পল্লীসাহিত্যেও সুন্দর দিকগুলো তুলে ধরেছেন এবং দেখিয়েছেন পল্লীসাহিত্যের বিপুলতা। কিন্তু এর জন্য দরকার সব সাহিত্য প্রেমিক মানুষের সহযোগিতা। শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টায়ই এই কর্ম সম্পাদন সম্ভব নয়। এর জন্য গড়ে তুলতে হবে `Folklore Society’ এবং এর জন্য এর গুরুত্ব দেশের জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। উদ্দীপকে দেখা যায় ঢাকার ঐতিহ্য, ঢাকার প্রাণ ‘বুড়িগঙ্গা’ -এর যথাযথ সংস্কারের অভাবে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ রকম একই অবস্থা হয়েছে বাংলার পুরনো দিনের ঐতিহ্য পল্লীসাহিত্যের। আধুনিক শিক্ষার সর্বনাশা স্রোতে মানুষ আজকাল এই সাহিত্য ধারার কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছে। বুড়িগঙ্গা একটি ঐতিহ্যবাহী নদী, সেই পবিত্র গঙ্গারই শাখা নদী যা প্রবাহমান ঢাকার ধারে। কিন্তু অনেকেই চায় এই নদীকে অপব্যবহার করতে এর দ্বারা অন্য সুফল ভোগ করতে। অথচ এর পুরনো ঐতিহ্যের প্রতি তেমন কারও নজর নেই। সেরকমই পল্লীসাহিত্যও এখন ধীরে ধীরে কঙ্কালসারে পরিণত হয়েছে। একে উদ্ধার করার যেন কেউ নেই। বুড়িগঙ্গার মতই এ পল্লীসাহিত্য সভ্যতার অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। উদ্দীপকে ইরফানরও একার পক্ষে বুড়িগঙ্গা সংস্কার সম্ভব নয়। তাকে এই কাজের জন্য দরকার হবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা। তবেই সে সবার সাহায্যে এই ঢাকার ঐতিহ্য, ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করতে পারবে, তাছাড়া নয়।