গৃহস্থের একদিন!

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৩৭
চোরের দশদিনের পর যে সত্যিই গৃহস্থের একদিন আসে সেকথা এখন হারে হারেই টের পেতে হচ্ছে টেক্সাসের স্প্রিংটাউনের ক্রিস্টোফার মুর। স্থানীয় এক বাড়িতে চুরির চেষ্টা করে ধরা পড়ে যাওয়ার পর উল্টো চোর হয়েই তাকে সাহায্যের জন্য আবেদন করতে হয়েছে পুলিশ বিভাগের জরুরি নম্বরে। পরে গৃহকর্তা ও তার ছেলের বন্দুকের নিশানা থেকে ক্রিস্টোফারকে উদ্ধার করে হাজত অবধি পৌঁছে দেওয়ার কাজটা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন করেছে পুলিশ। ঘটনার দিন রাতে ক্রিস্টোফার মুর নামের এই অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন তার অপরাধ কিংবা চুরি করার স্থান হিসেবে জেমস গেরো’র বাড়িটিকে বেছে নেন তখন তিনি হয়তো ভুলেও ধারণা করতে পারেননি যে এই বাড়ির অধিবাসীরা কতটা ভয়ঙ্কর (!) হতে পারেন। তাই বাড়িটিতে প্রবেশের চেষ্টা করার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই যখন জেমস গেরো আর তার সন্তানকে নিজের দিকে অস্ত্র তাক করতে দেখেন তখন জোড়া বন্দুকের নিশানা হয়ে পুরোপুরিই ভড়কে গিয়েছিলেন ক্রিস্টোফার। এ অবস্থায় পড়িমরি করে ড্রাইভওয়েতে রাখা নিজের পিকাপে উঠতে পারলেও তার পিছু তাড়া করে জেমস গেরোর সন্তান। ক্রিস্টোফার গাড়ি থেকে বেরুলেই তার পায়ে গুলি করার নির্দেশও এ সময় সন্তানকে দেন জেমস গেরো। এ প্রেক্ষাপটে অবস্থা বেগতিক দেখে গাড়িতে বসে থেকেই পুলিশ বিভাগের জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন দেন ক্রিস্টোফার মুর। জানান কীভাবে তার দিকে বন্দুক তাক করে রাখা হয়েছে এবং উদ্ধার করা না হলে তার মৃত্যুও হয়তো আসন্ন। এদিকে ঠিক একই সময়ে ৯১১-এ ফোন দিয়ে জেমস গেরোর স্ত্রী লিন্ডা গেরোও পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে বলে পুলিশের সাহায্য চান। জানান, এক্ষুনি না এলে তার স্বামী হয়তো সন্দেহভাজন চোরের পালানোর চেষ্টা আটকাতে গিয়ে তাকে গুলি করে বসতে পারেন। তবে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে হাজির হয় তখনও নিজেদের অবস্থান ও ঘটনাটি ৯১১-এর অপারেটরকে বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন ক্রিস্টোফার ও লিন্ডা। আর তাদের এই কথোপকথন এবং চোখে দেখা ঘটনা বিশ্লে¬ষণ করে ক্রিস্টোফার মুর যে অসত্ উদ্দেশ্যেই সেখানে গিয়েছিলেন তা বুঝতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি পুলিশকে।