আজ যেসব স্থান হানাদারমুক্ত হয়

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২০
আজ ১১ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন স্থান হানাদারমুক্ত হয়। এ উপলক্ষে ঐসব স্থানে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের। টাঙ্গাইল টাঙ্গাইলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন আজ। ১৯৭১ সালের এইদিনে বাংলার সূর্যসেনারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে টাঙ্গাইলকে মুক্ত করে উত্তোলন করেন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। টাঙ্গাইলে মুক্তিযুদ্ধে প্রধান ভূমিকা পালন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর কাদেরিয়া বাহিনী। চারদিক থেকে তাদের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকবাহিনী। ১০ ডিসেম্বর বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের অদূরে পৌলিতে মিত্রবাহিনীর প্রায় দুই হাজার ছত্রীসেনা অবতরণ করায় হানাদারদের মনোবল একেবারে ভেঙে পড়ে। তারা ছুটতে থাকে ঢাকার দিকে। ১১ ডিসেম্বর ভোর থেকে বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করতে থাকেন। টাঙ্গাইল শহর শত্রুমুক্ত হয়। টাঙ্গাইল পৌরসভা টাঙ্গাইল মুক্ত দিবস উপলক্ষে পাঁচদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কুষ্টিয়া মুক্তি সংগ্রামের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ’৭১ সালের এইদিনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা কুষ্টিয়ার মাটিতে স্বাধীনতার পতাকা উড়িয়েছিলেন। মুক্তিকামী হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ চৌধুরীর নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। ৮ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর ২টি ও পাকবাহিনীর ৮টি ট্যাংক বিধ্বস্ত হয়। এছাড়া মুক্তিবাহিনী পাকবাহিনীর একটি জেট জঙ্গী বিমান ভূপাতিত করে। এক পর্যায়ে পর্যুদস্তু পাকবাহিনী টিকতে না পেরে পিছু হটতে থাকে। ’৭১-এর ১০ ডিসেম্বর গভীর রাতে হানাদার বাহিনীর সর্বশেষ সদস্যরা কুষ্টিয়া থেকে পলায়ন করলে ১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া সম্পূর্ণ মুক্ত হয়। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষে প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পীরগাছা (রংপুর) ১৯৭১ সালের এইদিনে পীরগাছা হানাদারমুক্ত হয়। ৬ ডিসেম্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পীরগাছা থানাকে শত্রুমুক্ত করার জন্য এ থানার চারপাশে অবস্থান নেন। ওইদিন বিকালে মুক্তিযোদ্ধারা চৌধুরানী হাইস্কুল মাঠে অবস্থান নিলে পাকবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমণ চালায় এবং ডিনামাইড দিয়ে চৌধুরানী রেল স্টেশনটি উড়িয়ে দেয় ও আশপাশের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। অবশেষে ১১ ডিসেম্বর ভোরে চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পীরগাছা থানা ঘেরাও করলে অবস্থা বেগতিক দেখে রাজাকার-আলবদরসহ ১৭ জন পাকসেনা আত্মসমর্পণ করে এবং ওইদিন তাদের গুলি করে মারা হয়। এভাবে পীরগাছা থানা শত্রুমুক্ত হয়। দিবসটি উদযাপনে আজ মঙ্গলবার বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। নান্দাইল (ময়মনসিংহ) ১৯৭১ সালের এইদিনে নান্দাইল থানা পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত হয়। ১০ ডিসেম্বর রাতে নান্দাইল থানায় এক ব্যক্তি খবর নিয়ে আসে থানার তিনদিক ঘিরে মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান করছে। এ খবর পাকহানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায় তারা। মুক্তিযোদ্ধা (মুজিব বাহিনী) নান্দাইলের ফারুকের নেতৃত্বে ওসমান, কাইয়ুম, সাহেদ আলী, ফজলু ও নূরু নান্দাইল থানায় প্রথম পদার্পণ করে রাত ১২টার দিকে প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন। ফুলবাড়ি (দিনাজপুর) ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের ৭নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী পাকিস্তানী খানসেনা ও তাদের এদেশীয় রাজাকার, আলবদর ও আলসামসদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড সন্মুখ যুদ্ধের পর হিলিকে হানাদার মুক্ত করে। সন্মুখ ও গেড়িলা যুদ্ধে শহীদ হন হাকিমপুর উপজেলার বোয়ালদাড় গ্রামের মোস্তফা, একরাম উদ্দিন, বানিয়াল গ্রামের মুজিব উদ্দিন শেখ, ইসমাইলপুর গ্রামের মনিরুদ্দিন, মমতাজ উদ্দিন, বৈগ্রামের ইয়াদ আলী ও চেংগ্রামের ওয়াসিম উদ্দিন। দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। লাকসাম (কুমিল্লা) পাকবাহিনীর কবল থেকে মুক্তিযোদ্ধারা এদিন কুমিল্লার লাকসামকে শত্রুমুক্ত করেন। লাকসাম রেলওয়ে জংশনের অদূরে থ্রী-এ সিগারেট ফ্যাক্টরীতে এ অঞ্চলে পাক হানাদার বাহিনীর মূল ঘাঁটি ছিলো। এ অঞ্চলে যুদ্ধ পরিচালনা, অস্ত্র এবং যুদ্ধের যাবতীয় উপকরণ সরবরাহ করা হতো এখান থেকেই। এ ঘাঁটিতে বিভিন্ন স্থান হতে বাঙালি নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতীদের ধরে এনে পাশবিক নির্যাতন শেষে হত্যা করে পাশেই বেলতলী নামক স্থানে মাটি চাপা দেয়া হতো। বর্তমানে এ স্থানটি ‘বেলতলি বধ্যভূমি’ নামে পরিচিত।