মুক্তিযোদ্ধার কাঁধে ভিক্ষার ঝুলি!

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৩
একজন মুক্তিযোদ্ধা। নাম আবদুল খালিক। অভাব-অনটন লেগে আছে তার পরিবারে। বেছে নিয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তি। কোনমতে চলছে এই মুক্তিযোদ্ধার সংসার। স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা প্রাণভয়কে উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের অনেকের নাম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ঠাঁই হয়নি। পাননি সরকারি কোন স্বীকৃতি। অনেকের আবার মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও সংশ্লি¬ষ্টদের ঘুষ না দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাননি আজও। তারা বেঁচে আছেন শুধু সে দিনের সহযোদ্ধাদের স্মৃতি নিয়ে। মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালিক। সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মধ্যনগর গ্রামের মৃত ছমিরউদ্দিনের ছেলে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ৩০। যুদ্ধ শুরু হলে ভারতের মেঘালয়ে চলে যান তিনি। ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে মেজর মোতালেবের নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ জেলার মঙ্গলকাটার উড়াকান্দায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর মুক্তিবার্তায় এক গেজেটে তার নাম (নং-০৫০২১০০০২০ ) প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলও তাকে পরিচয়পত্র দেয় (নং-১১৩৫২)। তার বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুর্নবাসন সোসাইটির সনদ নাম্বার ৬৬৭৮। কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আবদুল খালিক। কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়ে তিনি বলেন, থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে ঘুষ না দেয়ায় আজও আমি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাইনি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্যে যুদ্ধ করেছি। এখন জীবন বাঁচাতে ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিয়েছি। তিনি তার চিকিত্সার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করেছেন।