হঠাত্ শৈত্যপ্রবাহে বগুড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৮
বগুড়ায় হঠাত্ করেই শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। জেঁকে বসেছে কনকনে শীত। গত দুই দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। দিনভর ঘন কুয়াশা ও হিমেল হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের। শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন জেলার ছিন্নমূল নারী ও শিশুরা। শীতবস্ত্র না পেয়ে তারা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। এদিকে হঠাত্ শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় লোকজন ভিড় করছেন শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে। আর শীতজনিত রোগ-ব্যধি বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বগুড়াসহ উত্তরের জেলাগুলোতে এখন মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই তাপমাত্রা কমছে। গতকাল সোমবার বগুড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। আগামীকাল তাপমাত্রা আরো কমে শীতের তীব্রতা বাড়বে বলে আশংকা করছেন তারা। কদর বেড়েছে শীতবস্ত্রের: তীব্র শীতের কারণে জেলার লেপ-তোষকের দোকানের পাশাপাশি মার্কেটগুলোতে গরম কাপড়ের দোকানে ভিড় করছেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত ক্রেতারা। আর নিম্ন মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষেরা যাচ্ছেন ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসা কম দামের গরম পোশাক বিক্রেতাদের কাছে। শহরের রেলওয়ে হকার্স মার্কেট এবং এর আশপাশের এলাকা জুড়ে বসেছে পুরাতন গরম কাপড় বিক্রেতাদের মেলা। সেখানে এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকে উপচে পড়া ভিড়। তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার কাপড়ের দাম বেশি বলে জানালেন ক্রেতারা। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানিকারকরা পুরাতন কাপড়ের দাম দফায় দফায় বাড়িয়ে দেয়ায় লাভ হচ্ছে সীমিত । বাচ্চাদের জন্য গরম কাপড় কিনতে আসা শহরের নূরানী মোড় এলাকার গৃহবধূ লুবনা ইয়াসমিন জানালেন, গত বছর বাচ্চাদের যে স্যুয়েটার তিনি কিনেছেন ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, একই ধরনের স্যুয়েটার এবার কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এভাবে প্রতিবছর দাম বাড়লে গরীব স্বল্প আয়ের মানুষেরা শীতের কাপড় কিনবে কিভাবে?” একই সুরে কথা বললেন স্কুল শিক্ষক গৌরব চন্দ্র দাস, এনজিও কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও গৃহবধূ হামিদা বেগম। সকলের দাবি: আমদানি করা এসব পুরাতন কাপড়ের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে থাকা উচিত্। এক্ষেত্রে সরকারের মনিটরিং দাবি করেছেন তারা। এদিকে গরম কাপড় বিক্রেতারা জানান, শীত মৌসুমের অনেক আগেই আমদানিকারকরা সব ধরনের গরম পোশাকের দাম একদফা বাড়িয়ে দেন। আর শীত যত বাড়ে, দামও তত বাড়ে। ফলে বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। ব্যবসায়ী আবুল হোসেন, টগর ইসলাম জানালেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু পাইকারী বিক্রেতা রয়েছেন, যারা আমদানিকারকদের কাছ থকে শীত আসার আগেই সব মাল কিনে নেন। পরে তারা সিন্ডিকেট করে মালের দাম নির্ধারণ করেন। ফলে তাদের কাছে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে রোগীর ভিড়: শৈত্যপ্রবাহের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, ব্রংকাইটিসসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তার ঘটছে। প্রতিদিন হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। গত দু’দিনে জেলার ১২ উপজেলায় প্রায় দেড় শতাধিক শিশু ও বয়স্ক রোগী শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে। রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সজাগ থাকতে এবং রোগ হলে চিকিত্সা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এ সময় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া হলে যতদ্রুত সম্ভব চিকিত্সা নিতে হবে। কম্বল এলেও বিতরণ হচ্ছে না : জানা গেছে, দুস্থ মানুষের শীত নিবারণের উদ্যোগ হিসেবে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস থেকে কোন চাহিদা পত্র এখনও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এপর্যন্ত ৫ হাজার ৮৩০টি কম্বল পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেসব কম্বল বিতরণে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. হাম্মাদুল বাকী জানিয়েছেন, আজ (মঙ্গলবার) ১০ হাজার কম্বলের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হবে। তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো কম্বলগুলো বিতরণের জন্য উপজেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।