ভারতে এফডিআই পাস করাতে ওয়ালমার্টের লবিং খরচ ১২৫ কোটি রুপি

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪০
ভারতের খুচরা বাজারে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ইস্যুতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতের পার্লামেন্টে এফডিআই পাস করাতে গত ৪ বছরে ১২৫ কোটি রুপি (২৫ মিলিয়ন ডলার) খরচ করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে তথ্য প্রকাশ করে মার্কিন কোম্পানি ওয়ালমার্ট। এ নিয়ে ভারতে গতকাল সোমবার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার অধিবেশন উত্তাল হয়ে ওঠে। গতকাল রাজ্যসভায় বিরোধী দলগুলো এফডিআই প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বিবৃতি দাবি করেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভি’র। গতকাল ভারতের রাজ্যসভায় বিরোধী দল বিজেপি, সিপিএম, সিপিআই, সমাজবাদী দলসহ কয়েকটি দলের নেতারা ওয়ালমার্টের এই তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেন। বিজেপি নেতা রবি শংকর প্রসাদ বলেন, এতে বোঝা যায় এফডিআই ইস্যুতে ঘুষের লেনদেন হয়েছে। ভারতে ঘুষ দেয়া-নেয়া আইনত অপরাধ। আর এই ঘুষ কাদেরকে দেয়া হয়েছে তা সরকারকে জানাতে হবে। এফডিআই প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিলো। তার বক্তব্যের সমর্থন করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ডি বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএম সদস্য এই ঘটনায় ‘একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ গঠনের দাবি জানান। তিনি এটাকে ‘ঘুষ’ বলে উল্লেখ করেন। এ সময় বিরোধী দলগুলো তার বক্তব্যকে সমর্থন করেন এবং চিত্কার করে এফডিআই প্রত্যাহারের জোর দাবি তোলেন। গত সপ্তাহে ভারতের লোকসভার পর রাজ্যসভায়ও ভোটাভুটিতে এফডিআই ইস্যুতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার জয়লাভ করে। এখন ভারতের বাজারে মার্কিন কোম্পানি ওয়ালমার্টসহ বিদেশি কোম্পানিগুলো খুচরা ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে পারবে। এই ইস্যুতে ভোটাভুটি করতে বিজেপি মূল ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এফডিআই কার্যকর করার জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল না। প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এবং ভোটাভুটি না করলে পার্লামেন্ট অধিবেশন অচল করে রাখে। এক পর্যায়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার পার্লামেন্টে ভোটাভুটি করে। আর্থিক সংস্কারের অংশ হিসাবে মনমোহন সরকার এফডিআই পাসের উদ্যোগ নেয়। সরকার বলছে, এর ফলে কৃষক থেকে শুরু করে সকল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লাভবান হবে। দেশের অবকাঠামো খাতেও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। এদিকে এফউিআই পাস করাতে ঘুষ দেয়ার যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতের ওয়ালমার্ট শাখা। গতকাল প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে ঘুষ দেয়ার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পর পর কোম্পানিকে তাদের লবিং খরচসহ ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করতে হয়। ওয়ালমার্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরামর্শদাতাদের পেছনে ব্যয় করা অর্থ ও অনুদান মোট খরচে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওয়ালমার্টের ওয়াশিংটন অফিস ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতি, বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব বাজারে এর প্রভাব নিয়ে মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে থাকে।