কাল সকাল থেকে ২টা পর্যন্ত ২ লক্ষাধিক ওষুধের দোকানে ধর্মঘট

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪২
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্টদের অবিলম্বে পরীক্ষা গ্রহণ এবং বর্ধিত ড্রাগ লাইসেন্স ফি প্রত্যাহার দাবিতে বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি দেশের দুই লক্ষাধিক ওষুধের দোকানে আকামীকাল বুধবার সকাল ছয়টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ধর্মঘট ডেকেছে। সমিতির সভাপতি সাদেকুর রহমান জানিয়েছেন, দাবি পূরণের আহ্বান জানিয়ে অনেক আগেই তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য সচিবকে গত ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোন ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। তাই তারা ধর্মঘট ডাকতে বাধ্য হচ্ছেন। জানা যায়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৮ হাজার ফার্মাসিস্ট পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা নেয়ার কথা। স্বাস্থ্য সচিব এ কাউন্সিলের সভাপতি। ১৪ সদস্যের ফার্মেসি কাউন্সিল গঠনের ক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে দুই বছর আগে বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটি (বিপিএস)-এর সদস্যদের বাদ দিয়ে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১১ সদস্যের কাউন্সিল পুনর্গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই কাউন্সিল গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের পরীক্ষা ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে ফার্মেসি কাউন্সিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটি। বিপিএসসূত্রে বলা হয়, উচ্চ আদালত পুনর্গঠিত ফার্মেসি কাউন্সিলের সভার কার্যক্রম আইন-বহির্ভূত বলে রায় দেয়, আপিল বিভাগেও রায়টি বহাল থাকে। বিপিএস থেকে আরও দাবি করা হয়, আপিল বিভাগের রায়ে বিপিএস সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে ফার্মেসি কাউন্সিল পুনর্গঠন করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সে নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি। ফলে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টসহ সি-ক্যাটাগরির ওষুধের দোকান পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্টদের পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য সচিব ইত্তেফাককে ইতিপূর্বে বলেন, ফার্মেসি কাউন্সিল পুনর্গঠন সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায়ের কপি তিনি পাননি এবং রায়ের কপি পেলে ফার্মেসি কাউন্সিল পুনর্গঠন করে ফার্মাসিস্টদের দ্রুত পরীক্ষা নেয়া হবে। স্বাস্থ্য সচিবের এই বক্তব্য ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়। এ ব্যাপারে কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির বক্তব্য হচ্ছে, স্বাস্থ্য সচিব ফার্মেসি কাউন্সিলের সভাপতি হিসাবে ফার্মাসিস্টদের পরীক্ষা নিতে পারেন। এতে কোন বাধা নেই। বর্তমানে স্বাস্থ্য সচিব বিদেশে অবস্থান করছেন। তিনি কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতিকে তার কোন মতামত দেননি বলে জানান। ফলে কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি ধর্মঘট ডাকতে বাধ্য হচ্ছে।