সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ইন্তেকাল

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৫৩
হূদরোগ ও কিডনি জটিলতায় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ (ইন্নালিল্লাহে ... রাজেউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের পুত্র ইমতিয়াজ আহম্মেদ বাবু জানান, লাইফ সাপোর্টে থাকা প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ গতকাল ভোর পাঁচটার দিকে ‘ডিপ কোমা’য় চলে যান। সাড়ে ১০টার পর চিকিত্সকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গত নভেম্বর মাসে ওই হাসপাতালে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের হূদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার হয়। এরপর কিডনিতে জটিলতা দেখা দিলে গত ৪ নভেম্বর তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। তখন থেকেই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। এখন মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। মৃত্যুকালে তাঁর ছেলে ইমতিয়াজ আহম্মেদ বাবু ও স্ত্রী অধ্যাপিকা আনোয়ারা বেগম ব্যাংকক ছিলেন। সাবেক এই রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ইয়াজউদ্দিন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার আমলে রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হন। বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের সঙ্গেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের দায়িত্বও নেন। পরে রাজনৈতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন ইয়াজউদ্দিন, যার জন্য তিনি সমালোচিত হন। ওই সময় টানা দুই বছর সেনা সমর্থিত একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ শাসন করেছিল। মুন্সীগঞ্জ শহরের পার্শ্ববর্তী নয়াগাঁও গ্রামেই ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৩১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রিধারী ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করেন। ইয়াজউদ্দিন ১৯৯৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন। তিনি সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়র মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯১ সালের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের খাদ্য ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে সেপ্টেম্বরে বিএনপি সরকারের শাসনামলে জাতীয় সংসদের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন তিনি। তিনি ঢাকার বনানীতে অতীশ দিপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মুন্সীগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ। সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল এক শোকবার্তায় বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ছিলেন একজন সফল শিক্ষক। বেগম জিয়া মরহুম ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। অপর এক শোকবার্তায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে একজন গুণী ও আদর্শবাদী শিক্ষাবিদ হিসাবে অভিহিত করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. আবদুল হামিদ সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি শোক বাণীতে বলেন, অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিনের মৃত্যুতে দেশ একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বরেণ্য ব্যক্তিকে হারালো। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। ডেপুটি স্পিকার কর্ণেল (অব.) শওকত আলী গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীরসাহেব চরমোনাই ও মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ গভীর শোক প্রকাশ করে ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করেন এবং তাঁর শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের মৃত্যুতে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রাস্টি সদস্য প্রফেসর ড. এম আবুল হোসেন শিকদার শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিতার কামনা করেছেন।